প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ছবি-যাযাদি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে বাবার সম্পতি থেকে বোনকে বঞ্চিত করায় বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে মেয়ে হালিমা। চাঞ্চল্যেকর এঘটনায় গোটা এলাকার মানুষজন বিস্মিত।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বোয়ালীদহের নাজির উদ্দিনের দুই ছেলে মেয়ে ইদ্রিস আলী ও হালিমা। বাবা নাজির উদ্দিনের জীবদ্দশায় ছেলে ইদ্রিস আলী বোন হালিমা বেগম কে বাবার সম্পতি থেকে বঞ্চিত করে গোপনে সমুদয় সম্পতি তার নিজের নকমে লিখে নেন।পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ভাই বোনের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়।এরইমধ্যে সোমবার বাবা নাজির উদ্দিন অসুস্থজনিত কারণে মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে মেয়ে হালিমা ছুটে আসেন। হালিমা বেগম উপস্থিত লোকজনদের জানান,আমাকে বাবার সম্পতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।এমতবস্থায় বাবার সম্পত্তির নিজের ন্যায্য ভাগ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে সাফরজানিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা ক্ষোভ আর উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা গেছে।
হালিমা বেগম অভিযোগ করে আরো জানান, বাবার অসুস্থতার সুযোগে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সব সম্পত্তি গোপনে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ফলে বাবার সম্পত্তিতে তিনি কোনো অংশ পাননি বলে দাবি করেন ।
এদিকে নাজির উদ্দিন বেপারীর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা নামাজের জন্য এলাকায় মাইকিংসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।এরইমধ্যে বাবার সম্পত্তির ভাগ নিয়ে জোর আপত্তি তোলেন মেয়ে হালিমা বেগম। তাঁর দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না দেওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না তিনি।
বিদ্যমান পরিস্থিতি নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সৃষ্ট বিরোধ সমঝোতার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে বাবার প্রাপ্ত সম্পতির বিনিময়ে হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।কিন্তু হালিমা বেগম তাৎক্ষনিক ভাবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
হালিমা বেগমের দাবি ,কোনো টাকার বিনিময়ে নয়, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান তিনি। সেই অধিকার নিশ্চিত না পাওয়া পর্যন্ত বাবার মরদেহ দাফনে আপত্তি জানান।
একদিকে পড়ে রয়েছে বাবার মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মেয়ের অনড় অবস্থান, এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। তবে বাবা নাজির উদ্দিন সম্পত্তি কীভাবে লিখে নিয়েছেন, সে বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বলেন,দলিলপত্রাদি দেখার পর সবকিছু স্পষ্ট হবে।