প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
ছবি: যাযাদিবাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানো, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।
সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ ও ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা যাতে সহজে বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারে অভিবাসনের ভূমিকা এবং এ সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যান। তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি মেধাপাচারকে কীভাবে মেধার পারস্পরিক প্রবাহে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
আলোচনায় প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
মাহ্দী আমিন ইইউ প্রতিনিধিদলকে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইইউর পরিচালক হেনরিক নীলসেন এবং ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর উপস্থিত ছিলেন।