ছবি-যাযাদি সম্প্রতি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের দুটি বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।।
(এসিল্যান্ড) নাহিদুল হক র' বদলিতে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ প্রকাশের ঘটনাটি এদেশের প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক একটি চিত্র। সাধারণত ভূমি-সেবা অফিস গুলোতে ঘুষ,দুর্নীতি এবং দালালদের দৌরাত্ম্যে, গ্রাহক সেবার নামে হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ বেশি থাকলেও, নাহিদুল হক র' মতো দক্ষ কর্মকর্তার সততা,কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন, বিদায়ী কর্মকর্তা নাহিদুল হক।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করার পর নিয়মিত বা পর্যায়ক্রমিক কিংবা পদোন্নতিজনিত বদলির জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই রুটিন বদলির প্রক্রিয়ায় যখন নাহিদুল হকের মতো কোনো সৎ ও জনপ্রিয় কর্মকর্তা বদলি হন, তখন স্থানীয়দের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই আক্ষেপ তৈরি হয়।
সাধারণ মানুষের এই আক্ষেপ ও ক্ষোভের মূল কারণগুলো হলো-
হয়রানি মুক্ত ভুমি সেবা,সাধারণত নামজারি (মিউটেশন) বা খতিয়ান সংশোধনের মতো জটিল কাজে মানুষ যেখানে দালাল বা ঘুষের অভিযোগ তোলে, সেখানে বিদায়ী কর্মকর্তা নাহিদুল হকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন বলে,তাহার পদোন্নতিজনিত বদলি বা চলে যাওয়াটা সাধারণ মানুষ সহজে মেনে নিতে পারছেননা।
নাহিদুল হকের মতো একজন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তার ভালো ব্যবহার,সরাসরি সাধারণ মানুষের কথা শোনেছেন, প্রান্তিক কৃষকদের জটিল ভূমির আইন সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন, এবং মধ্যস্বত্বভোগী(দালাল)দের দূরে রাখতেন, এই ভূমি কর্মকর্তার পদোন্নতিজনিত বদলী বা বিদায়ী কর্মকর্তার জায়গায় নতুন যিনি আসবেন, তিনি কতটা জনবান্ধব হবেন বা কাজের গতি কেমন হবে—তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে।
বিদায়ী কর্মকর্তা নাহিদুল হক এর পদোন্নতিজনিত কারনে চলে যাওয়াটা,সাধারণ মানুষের এই দুঃখ প্রকাশ প্রমাণ করে যে,সৎ ,ন্যায় নীতিবান এবং জনগণের সেবা করার, সহজলভ্যতার মন-মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তার কদর এখনো রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা নাহিদুল হক র' বদলিতে জনতার আক্ষেপ: কাপাসিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড নাহিদুল হক র' বদলির আদেশ চূড়ান্ত হওয়ার পর এই সংবাদ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আক্ষেপ তৈরি হয়েছে।বিগত ২৫/০৮/২৫ তারিখে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এর দায়িত্ব পালন শুরু করে অক্টোবর ২০২৬ ইং অদ্যাবধি দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঘুষ,দুর্নীতি,নানা অনিয়ম,দালাল মুক্ত ভূমি অফিস গড়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই নাহিদুল হক, এখানে আশার পর, সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ভূমিসেবা নিশ্চিত করায় তাঁর এই পদোন্নতিজনিত নিয়মের বদলিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজে মেনে নিতে পারছেন না, যা উপজেলার মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেখা যাচ্ছে।
এর বিপরীত একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে,নিয়মিত বদলির আদেশ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত ২৫/৮/২৫ ইং তারিখ হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত,নাহিদুল হক,কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সেবা দায়িত্বে নিয়োজিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার আওতাধীন ১১ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের, মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (যেমন: কাপাসিয়া সদর, তরগাঁও, টোক ইত্যাদি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রুটিন বদলির কাজ চলমান রেখে। এই রুটিন বদলির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সেবাকে আরও গতিশীল ও দালালমুক্ত করার চেষ্টা করে আসছিলেন,এই নাহিদুল হক।
কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে, নানা অনিয়ম, অদক্ষতা ও সরকারি দাপ্তরিক কাজে বহিরাগত দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগে, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কর্মচারীকে বদলী। এছাড়া বিগত বেশ কিছুদিন আগে গাজীপুর জেলার কালীয়াকৈর ভুমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের,জেলা প্রশাসক কর্তৃক সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আক্ষেপ না করে বরং স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আমজনতা।
সামগ্রিকভাবে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের এই আক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে যে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তারা যদি সততা ও জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করেন, তবে তাদের বদলিতে জনগণ অভিভাবকহীন বোধ করেন। আবার উল্টো দিকে, অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণ তার প্রতিকারও আশা করেন।
ভূমি কর্মকর্তাদের বদলি ও জনবল রদবদলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কাপাসিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বদলি ও প্রশাসনিক তৎপরতার ক্ষেত্রে দুটি প্রধান প্রেক্ষাপট লক্ষ্যণীয়। যেমন:
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ: কাপাসিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপজেলার মোশাররফ হোসেন, মোস্তফা ফকির, কামাল, তুহিন ও আয়ুবুর রহমানসহ অসংখ্য ভুমি সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন এধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির দাবি সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের, দীর্ঘ দিনের আশা।
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কাপাসিয়া ভূমি অফিসে বিদায়ী কোনো সৎ কর্মকর্তার জন্য যেমন আক্ষেপ থাকে, ঠিক তেমনই কোনো অসাধু বা সিন্ডিকেট-বান্ধব কর্মকর্তার বদলির আদেশে এলাকায় স্বস্তি নেমে আসার নজিরও রয়েছে।
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডে নাহিদুল হক,র' পদোন্নতিজনিত বদলি এবং এর ফলে দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা ধরে রাখা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিগত ২৫/৮/২৫ ইং তারিখ হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত, নাহিদুল হকের, কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার এক বছরের মধ্যে এই কাপাসিয়া ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ ঘুষ, হয়রানি ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যমুক্ত রেখে যেভাবে একটি মডেল অফিস হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, যোগ্য শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়ে তা এখন হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সেবাগ্রহীতাদের মূল আক্ষেপ ও উদ্বেগের জায়গাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিগত একটি বছর বিদায়ীপদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড নাহিদুল হক র' সততা, প্রজ্ঞা, চতুরমুখী সচেতনতা ও কঠোর নজরদারির কারণে কাপাসিয়াবাসী নিরাপদে ডিজিটাল ও মাঠপর্যায়ের ভূমিসেবা পেয়ে আসছিলেন। তাঁর এই সুশাসনের কারণে সাধারণ মানুষ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি না হয়ে সরাসরি সরকারি নির্ধারিত ফিতেই নামজারি (মিউটেশন) মিসমোকদদমা ও খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন।
পুরাতন কর্মচারীদের নিয়ে শঙ্কা: শীর্ষ কর্মকর্তার বদলির পর সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ এই অফিসের কিছু পুরাতন কর্মচারীদের ঘিরে। বিশেষ করে এসিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সহকারী (নাজির বা পেশকার) মাহবুব নামের যে কর্মচারী যিনি দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে একই স্টেশনে রয়েছেন—তাঁর মতো পুরাতন কর্মচারীদের পূর্বের ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি কাজ করছে।
দালাল সিন্ডিকেটের পুনর্বাসনের ভয়: স্থানীয়দের শঙ্কা, একজন সৎ ও দক্ষ এসিল্যান্ডের বিদায়ের সুযোগ নিয়ে কাপাসিয়ার চতুর দালাল সিন্ডিকেট এবং দীর্ঘদিন ধরে গেড়ে বসা অফিসের অসাধু কর্মচারীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে এক বছর আগের ন্যায় অফিসটি আবারও দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হওয়ার স্পষ্ট আশঙ্কা দেখছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতাগণ।
মাঠপর্যায়ের এই শঙ্কা নিরসনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রবিধান অনুযায়ী কোনো তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি সময় থাকতে পারেন না। যদি এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৬/৭ বছর একই অফিসে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে,নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় গনমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল।, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই দুর্নীতি ও অনিয়মের শঙ্কা রুখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি বা সাধারণ মানুষের।