প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
ছবি-যাযাদি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন হারিয়ে যাওয়া চার বছরের শিশু আবদুল্লাহকে চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় খুঁজে বের করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এসময় শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাশাপাশি শিশুটিকে নিরাপদে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো এবং পরিবারের সন্ধানে সহযোগিতা করায় অটোরিকশা চালককেও সম্মানী প্রদান করলেন।
পরিবারের সূত্রে জানাগেছে , মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় আবদুল্লাহ বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর সকাল ১০টার দিকে গাবতলা মোড় এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে সে আহত হয়। তাৎক্ষণিক আহত শিশুটিকে অটোরিকশাচালক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে শিশুটিকে নিয়ে এলাকায় ফিরে পরিবারের সন্ধান করতে থাকেন তিনি। কিন্তু বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পরিবারের সন্ধান না পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে রিকশাচালক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি বাসভবনে গিয়ে উপস্থিত হন।
বিষয়টি জানার পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জনাব এস এম ফয়েজ উদ্দিন শিশুটির পরিবারের সন্ধানে উদ্যোগ নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় দীর্ঘ চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে লালখান, কুতুবপুর এলাকায় শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ উদ্যোগে আবদুল্লাহকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন।
এ সময় শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করায় অটোরিকশাচালককে সম্মানী প্রদান করা হয়। এসময় শিশুটিকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা এবং একজন সাধারণ মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধ একসঙ্গে কাজ করলে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।