প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৬ ৮:০২ পিএম
ছবি: যাযাদি ফেনীর পরশুরামে সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগে শহিদ উল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তিনি নিজেকে পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর দুই টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই দিন রাতে এক রাজনৈতিক নেতার আত্মীয় পরিচয়ে এক ব্যক্তি মুচলেকা দিয়ে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থী ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শহিদ উল্লাহর সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে সংযত আচরণের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তাকে মারধরের আশঙ্কা তৈরি হলে খবর পেয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছান। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদ উল্লাহর বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ বরইয়া এলাকায়।
এদিকে, তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ক্লিনিক পরিচালনা এবং চিকিৎসাসেবায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
তাদের অভিযোগ, রহিমা আক্তার ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফ হিসেবে কর্মরত থাকলেও পরশুরাম হাসপাতালের পূর্ব পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন। সেখানে সিজারসহ প্রসবসংক্রান্ত সেবা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, সুবার বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় অবহেলার কারণে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় শিশুদের স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাকে রক্ষা করতে শহিদ উল্লাহ কয়েক বছর ধরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। তবে তার সাংবাদিকতার পরিচয়, থানায় নেওয়ার পর মুক্তির প্রক্রিয়া এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।