প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম
ছবি: যাযাদিঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীপুর বেদেপল্লিতে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাতে উপজেলার ৮ নম্বর কাশীপুর বেদেপল্লিতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে শামিম নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি কাশীপুর বেদেপল্লির রেজা ডাক্তারের ছেলে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে শামিমের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাশীপুর বেদেপল্লিতে অভিযান চালাচ্ছে জেলা পুলিশ ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। কালীগঞ্জ সার্কেলের মাহফুজ আলম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা এলাকায় কাজ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেদেপল্লিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের ভাষ্য, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এ বিরোধ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল বলেও জানান তাঁরা। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবারও আধিপত্য বিস্তার ও দখলদারিত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জুলফিকার আলী বলেন, “বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় এক নেতা বলেন, বেদেপল্লিতে মাদক, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিরোধের যথাযথ সমাধানের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এবং আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।