‎বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে কৃষকের বাগান বরাদ্দে লুটপাট, লিটন বহাল তবিয়তে

ইলিয়াস সানি, বান্দরবান

সারাদেশ

বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক (ডিডি) লিটন দেবনাথের বিরুদ্ধে টিস্যু কালচার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকের নামে বাণিজ্যিক আনারস বাগান বরাদ্দ

2026-10-20T15:49:46+06:00
2026-10-20T15:49:46+06:00
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
‎বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে কৃষকের বাগান বরাদ্দে লুটপাট, লিটন বহাল তবিয়তে
ইলিয়াস সানি, বান্দরবান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম  
বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক (ডিডি) লিটন দেবনাথ
বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক (ডিডি) লিটন দেবনাথের বিরুদ্ধে টিস্যু কালচার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকের নামে বাণিজ্যিক আনারস বাগান বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে কৃষকের নাম ব্যবহার করা হলেও তিনি কোনো চারা কিংবা আর্থিক সহায়তা পাননি। মাঠপর্যায়ে বাগান বাস্তবায়নের পরিবর্তে নামমাত্র সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দৈনিক যাযাদি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্থানীয় কৃষকের নামে বাণিজ্যিক আনারস বাগান বরাদ্দের তথ্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট কৃষক সেই বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। তবে প্রকল্পের নথিপত্র, বরাদ্দের পরিমাণ, অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের হিসাব এবং বাস্তবে বাগান স্থাপনের বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফারুক পাগার এলাকার কৃষক বয়ঙির বমের (৫০) নামে একটি বাণিজ্যিক আনারস বাগান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওই কৃষকের দাবি, তাঁর নামে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। বাগান স্থাপনের জন্য তাঁকে কোনো আনারসের চারা কিংবা অর্থ দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী কৃষক বয়ঙির বম দৈনিক যাযাদিকে বলেন, আমার নামে আনারস বাগান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো আনারসের চারা কিংবা বরাদ্দের টাকা পাইনি। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ বিচার দিলাম। তিনি আরো বলেন, আমার নামে বরাদ্দসংক্রান্ত আবেদনপত্র, সুবিধাভোগী তালিকা, বিতরণ রেজিস্টার, অর্থ ছাড়ের নথি এবং বাগানের বাস্তব অবস্থান যাচাইয়ের দাবি করছি।  

অন্যদিকে, স্থানীয় আরেক কৃষক লালজার থান বমের অভিযোগ, তাঁকে বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে কয়েকটি আমের চারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোপণের কিছুদিনের মধ্যেই সব চারা মারা যায়। ফলে সরকারি উদ্যোগে ফলের বাগান স¤প্রসারণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলে জানান তিনি।

কৃষকের অভিযোগ, শুধু চারা বিতরণ করলেই প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না; চারার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক সময়ে রোপণ, সার প্রয়োগ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়াও জরুরি। কিন্তু বিতরণ করা চারাগুলো মারা যাওয়ার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো তদারকি বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারি অর্থে বিতরণ করা চারা টিকিয়ে রাখা এবং সেগুলো থেকে কৃষক যাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পান, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই লালজার থান বমের পাওয়া আমের চারাগুলোর জাত, সংখ্যা, সরবরাহের সময় এবং মৃত্যুর কারণ যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি নিয়ে তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের আওতায় বাণিজ্যিক আনারস বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে কৃষকের প্রকৃত অংশগ্রহণ ও সহায়তা নিশ্চিত না করেই কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে নামমাত্র সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বরাদ্দ, উপকারভোগীর তালিকা, চারা ক্রয় ও বিতরণের হিসাব, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ দৈনিক যাযাদিকে বলেন, “আমি সবকিছু নিয়ম মেনে কাজ করছি। আমার সব কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে। আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব।”

বান্দরবান কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নঈম সাইফুদ্দিন বলেন, “কৃষকের বাগানের বরাদ্দ কীভাবে মেরে খায়, আমি জানি না। যদি ঘটনাটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর প্রাপ্য শাস্তি তিনি পাবেন।”

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি অঞ্চলের কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এমএম শাহ নেয়াজ বলেন, “কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের দীর্ঘ কয়েক যুগের অর্জন ও সুনাম যারা মাটিতে মিশিয়ে দিতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না। কেউ কৃষকের বরাদ্দ নিজে খেয়ে নিলে তার জবাব তিনিই দেবেন। প্রমাণ পেলে আমি আমার ওপরের মহলকে জানাব।”

টিস্যু কালচার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি লিটন দেবনাথের বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তাঁদের অভিযোগ, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির হর্টিকালচার উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ে তিনি অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষকের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে প্রকৃত সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থ ছাড়, ব্যয়, চারা বিতরণ, উপকারভোগীর স্বাক্ষর এবং মাঠপর্যায়ে বাগানের অস্তিত্ব যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষি খাতে সরকারি বরাদ্দের মূল লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করা। সেই বরাদ্দের সুবিধা যদি প্রকৃত কৃষকের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা ও সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা-দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রæত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।


  বিষয়:   বান্দরবান  বহাল তবিয়ত  হর্টিকালচার 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
লাভ রোড, ৪৪৬/ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত