ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাকসবজির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে চাল, মুরগীসহ অন্যান্য পন্যের দাম

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ১ সপ্তাহের ব্যবধানে শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে। শাকসবজির দাম কিছুটা কমলেও চাল,

2026-10-23T19:38:46+06:00
2026-10-23T19:38:46+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি ক্রেতাদের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাকসবজির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে চাল, মুরগীসহ অন্যান্য পন্যের দাম
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম  
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজারের মাংসের, চালের, মুদি দোকান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ১ সপ্তাহের ব্যবধানে শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে। শাকসবজির দাম কিছুটা কমলেও চাল, ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী মুরগির দাম বেড়েছে।  এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পন্যেও দাম বেড়েছে। এতে করে সীমিত আয়ের মানুষজনকে দুর্ভোগ বেড়েছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা  কমেছে।

শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজার,  জগত বাজার, মেড্ডা বাজার, কাউতলী বাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, কাঁচা মরিচ, করলা, ধনেপাতা ও টমেটো ও লাউয়ের দাম কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে বাজারে চালের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ কেজি চালের বস্তায় ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

কমেছে সবজির দাম

গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি পটল  টাকা ৬০ থেকে কমে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা, ঢেড়শ ৯০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা, শসা হাইব্রিড ১০০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও প্রতি কেজি করলা ৯০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ১০০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে আকারভেদে ৬০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

কমেছে মাছের দাম

শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি নামতে শুরু হওয়ায় মাসের শেষ সপ্তাহে কমেছে মাছের দাম। গত সপ্তাহে রুই মাছ ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়েছে বর্তমানে কমে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাতল মাছ ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৫০ টাকা, ঘাসকার্প ৩২০ টাকা থেকে কমে ২৯০ টাকা, কার্ফু ৩০০ টাকা থেকে কমে ২৮০ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ টাকা থেকে কমে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কমেছে ডিমের দাম

গত এক সপ্তাহের তুলনায়  ডিম হালি প্রতি কমেছে ৪ টাকা। লাল ডিম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৬ টাকা, হাসের ডিম ৬৪ টাকা থেকে ৬০ টাকা, দেশী ৮৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমায় বাজারে সবজি ও মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কয়েকটি সবজির দাম কমলেও পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের মোট খরচ নির্ভর করে চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম ও মাংসের মতো অন্যান্য পণ্যের দামের ওপরও।

চাল- মুরগীতে বাড়তি খরচ

সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। লেয়ার ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। সোনালী ২৯০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৩০টাকা।
২৮ চাল ২৫ কেজির বস্তায় গত সপ্তাহে ১২৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৩৫০, ২৯ চাল ১২৫০ টাকা  থেকে বেড়ে ১৩৩০ টাকা, নাজির শাইল চাল ১৭০০ টাকা থেকে বেড়ে  ১৮০০ টাকা, কাটারীভোগ চাল ১৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২১৫০ টাকা, মিনিকেট চাল ১৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৫০ টাকা, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মৌসুমী বোরো চালে গত সপ্তাহে ছিলো ২৩৫০ টাকা বর্তমানে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে

গরু মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, রসুন দেশী ৮০ টাকা, রসুন চায়না ১৬০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, মসুর ডাল দেশী ১৫০ টাকা, মসুর ডাল মোটা ১০০ টাকায় কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তৈল ৫ লিটার ১০০০ টাকা, তৈল খোলা সয়াবিন ২০৮ টাকা কেজি, আলু ডায়মন্ড ২০ টাকা, আলু দেশী ৩৫ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দাম কমার বিষয়ে আন্দন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শিপলু ও ওয়াসিম মিয়া জানান, মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে কাস্টমার কম থাকায় আর নদীতে পানি নেমে যাওয়ার কারণে চাষের মাছের প্রতি চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে মাছের দাম কম।

সবজির দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ব্যয় কমছে না। বাজারে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে দামের সঙ্গে আয় মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা শিক্ষক আবদুল্লাহ বলেন, বাজারের সবকিছুই নাগালের বাইরে। সবজির দাম আপাতত কম হলেও অন্য জিনিস পত্র কিনতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা আমাদের। তিনি আরও বলেন, মধ্যবিত্তরা সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। আমাদের আয় হয় কচ্ছপের মতো আর ব্যয় হয় খরগোশের মতো।

অপরদিকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা কম। তবে দাম বাড়ার সময় যে পরিমান বৃদ্ধি পায় সে তুলনায় কমেনা দাম। যার কারণে আমরা নিন্মবিত্তের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়।
মেড্ডা বাজারে সবজি কিনতে আসা রইস মিয়া জানান, বর্তমানে বাজারের অবস্থা টালমাটাল অবস্থায়। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার এখন তৃপ্তি মিঠিয়ে খাবারের দিন শেষ। সবজি কিনতে পারলে মাছ কিনতে পারিনা। মাছ কিনতে পারলে মাংস কিনতে পারিনার মধ্যে আছি।

মুরগীর দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ রাশেদ মিয়া বলেন মুরগীর দাম বাড়ার কারণ হলো বর্তমানে একটু শীত মৌসুম। এই সময় মুরগী ভাইরাসে মারা যায়। যার কারণে দাম বাড়ছে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের মেসার্স জালাল এন্টার প্রাইজের প্রবাস উদ্দিন  জানান, বর্তমান মৌসুমে পুরাতন চাল শেষ পর্যায়ে হওয়ায় পুরাতন চালের চাহিদা বেশি থাকায় যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবজির দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে সবজি বিক্রেতা মাহবুব বলেন বর্তমানে বাজারে চাহিদা তুলনায় ক্রেতা কম, আর শীতকালীন সবজি উৎপাদন বাড়ায় দাম কমছে।

সাধারণ ক্রেতাদের মতে, সবজি ও মাছের বাজারে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি মিললেও চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নিত্যদিনের সমীকরণ এলোমেলো করে দিচ্ছে। ফলে এক খাতে সামান্য সাশ্রয় হলেও অন্য খাতের বাড়তি খরচে মাসের শেষে টানাটানি থেকেই যাচ্ছে। তাই সিন্ডিকেটরোধ, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরদার ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত