ইরান সীমান্তে মহড়া চালিয়ে এলো আমেরিকা-ইসরেল

যাযাদি ডেস্ক

ইন্টারন্যাশনাল

নতুন করে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত ফাইটার জেট নিয়ে গিয়ে মহড়া চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরেল। নভেম্বরে আমেরিকার মিডটার্ম

2026-10-24T00:00:00+06:00
2026-10-23T22:30:36+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
ইন্টারন্যাশনাল
ইরান সীমান্তে মহড়া চালিয়ে এলো আমেরিকা-ইসরেল
যাযাদি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:৩০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

নতুন করে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত ফাইটার জেট নিয়ে গিয়ে মহড়া চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরেল। নভেম্বরে আমেরিকার মিডটার্ম ইলেকশনের পর ইরানের জ্বালানি, পারমাণবিক ও মিসাইল পরিকাঠামোয় স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র হামলা চালানোর প্ল্যান করেছে দুই দেশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আমেরিকান নিউজ মিডিয়া এক্সিওস ও নিউ ইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসরেলি সেনা বাহিনী কয়েক ডজন ফাইটার জেট নিয়ে একটি সামরিক মহড়া চালায়। ফাইটার জেটগুলোর ফ্লাইট পাথ সম্ভাব্য হামলার প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কর্মকর্তারা এক্সিওসকে জানান, ফাইটার জেটগুলো ইসরেল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত পৌছায়। পরে সেখান থেকে ফিরে আসে।

কর্মকর্তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরেলের যৌথ হামলার জেরে মিডল ইস্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবার নতুন করে হামলার প্ল্যান করছে দুই দেশ। তাদের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ইরানের শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অভিযানটি স্বল্পস্থায়ী হলেও অত্যন্ত তীব্র হবে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং মিসাইল-সংক্রান্ত পরিকাঠামো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, আরো এক দফা বড় ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানকে বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে।

যুদ্ধের আশঙ্কায় রণকৌশল বদলেছে ইরান
ইরান আমেরিকা-ইসরেলের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, এবার হামলা হলে ইরানের পাল্টা জবাব হবে  আরো ব্যাপক ও অনিশ্চিত। সংশোধিত সামরিক কৌশল, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আগের দফার সংঘাতে হামলার শিকার হওয়া স্থাপনাগুলোর বাইরেও নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছে তেহরান।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই খবর প্রকাশিত হয়েছে, চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইসরেলের প্রধান মন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাতে আপত্তি জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মিডল ইস্ট কেন্দ্রিক নিউজ মিডিয়া নিউ আরবকে বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ ও নৌ বাহিনীর পাশাপাশি দেশটির সেনা বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আলিজাদেহ আরো বলেন, মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে হাইপারসনিক বা অতিধ্বনির গতিসম্পন্ন জাহাজবিধ্বংসী মিসাইলও রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার মতে, এ ধরনের অস্ত্রের গতিপথ হবে আরো জটিল, ফলে সেগুলোকে মাঝপথে প্রতিহত করা কঠিন হবে। তবে এসব মিসাইলের পাল্লা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের তুলনায় কম।

আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম বলেন, নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরানের জবাব  আগের সংঘাতগুলোতে দেখা পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার হুশিয়ারি, ইরানের অভিযান শুধু মিডল ইস্ট জুড়ে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাটি ও ইসরেলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হবে না, বরং আরো দূরের স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তিনি বিশেষভাবে ইসরেলের হাইফা ও টেল আভিভের মতো শহর এবং দেশটির দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া ইরানের এমন কিছু অস্ত্র ব্যবহারের কথাও তিনি বলেন, যেগুলো আগে কখনো মোতায়েন করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে তার ভাষায়, শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় বোমা এবং ‘রাস্তাখিজ’ বা ‘পুনরুত্থান’ নামে পরিচিত একটি মিসাইল। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে  যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহিও আলাদাভাবে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে এবার আরো কঠোর জবাব দেয়া হবে। তার দাবি, তেহরান এমন মিসাইল তৈরি করেছে, যেগুলো শনাক্ত করা বা মাঝপথে প্রতিহত করা সম্ভব নয়।

ইরানের সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, আগের দুই যুদ্ধের তুলনায় আরো বেশি ধ্বংসাত্মক একটি প্ল্যান তৈরি করেছে ইরান। তবে প্ল্যানের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলদেশীয় ইন্টারনেট কেবলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তার হুশিয়ারি, আমেরিকার সীমিত পরিসরের সামরিক অভিযানও বিশ্ব জুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করতে পারে। নতুন করে আমেরিকা-ইরান সংঘাত এড়াতে এবং একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌছানোর লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তানের নেতৃত্বে ডিপ্লোম্যাটিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।

একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়তে পারে নতুন যুদ্ধ
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আগের মতোই একাধিক রণাঙ্গনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর মধ্যে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হুথিরা এরইমধ্যে সউদি আরবের সঙ্গে সীমান্তপারের সংঘাতে জড়িত রয়েছে। একই সঙ্গে সউদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধেও অংশ নিচ্ছে তারা। কয়েক মাস ধরে ইসরেলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকা হিজবুল্লাহও নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। আমেরিকা ও ইসরেলের হামলায় এরই মধ্যে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক ঘাটি আক্রান্ত হয়েছে। এর জবাবে এসব গোষ্ঠী ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তথ্যসূত্র : এক্সিওস, নিউ ইয়র্ক টাইমস, নিউ আরব
ইন্টারন্যাশনাল- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত