ইরানে যে কোনো মুহূর্তে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যাযাদি ডেস্ক

ইন্টারন্যাশনাল

ইরানের ওপর যে কোনো মুহূর্তে নতুন করে সামরিক হামলার হুশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি তেহরানের

2026-10-26T00:00:00+06:00
2026-10-25T21:14:56+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
ইন্টারন্যাশনাল
ইরানে যে কোনো মুহূর্তে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যাযাদি ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৯:১৪ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
ফ্লোরিডায় শনিবার মিডটার্ম ইলেকশনে আগাম ভোট দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -আল-জাজিরা
ইরানের ওপর যে কোনো মুহূর্তে নতুন করে সামরিক হামলার হুশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। আমেরিকান কর্মকর্তাদের ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলার প্ল্যান নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। ফলে আসন্ন আমেরিকান ও ইসরেলি ইলেকশনকে কেন্দ্র করে মিডল ইস্টে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুকি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, হয়তো রবিবারই এমন কিছু ঘটতে পারে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘সামরিক হামলা কিংবা সমঝোতা চুক্তি— উভয় পথই এখনো খোলা রয়েছে।’ তার দাবি, ইরান সমঝোতা করতে চায়, তবে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এর আগে ফ্লোরিডার এক সমাবেশে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ‘এপিক ফিউরি’র মতো বড় অভিযান চালাতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে তেহরানের সঙ্গে সংঘাত চলছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে স্থায়ীভাবে ঠেকানোই তার প্রধান লক্ষ্য। আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড এরইমধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ প্রধান অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে  চূড়ান্ত করেছে।
আমেরিকান হুমকির মুখে পালটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে নস্যাৎ করেছে। তবে সংকট সমাধানে এখনো ডিপ্লোম্যাসি চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আলী আবদোল্লাহি কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো আমেরিকান যুদ্ধ জাহাজকে পারস্য উপসাগর বা ইরানের জলসীমায় ঢুকতে দেয়া হবে না।’

আমেরিকান নিউজ মিডিয়া নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, উভয় দেশই যুদ্ধের নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। আমেরিকান গোয়েন্দাদের দাবি, বিদেশে আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট ও কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তহত্যার ছক কষছে ইরানের অভিজাত ‘ইউনিট ৮৪০’। এমনকি আমেরিকার মাটিতেও হামলার প্ল্যান বাস্তবায়নে ভাড়াটে অপরাধীদের কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ধরনের প্ল্যান বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

নতুন কোনো হামলা হলে সংঘাত আরো বিধ্বংসী রূপ নেবে বলে তেহরান হুশিয়ার করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানান, নতুন যুদ্ধ হবে অপ্রচলিত ও আকস্মিক। তেহরান আগেই হুমকি দিয়েছে, তারা বেসামরিক অবকাঠামো ও সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল নিশানা করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এখনো অব্যাহত রেখেছে ইরান।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছে। এই যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৭ ডলারে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণেই সংঘাতের ঝুকি দিন দিন বাড়ছে। 

ট্রাম্পের বিশৃঙ্খলা ও নিষ্ঠুরতার সমালোচনা করলেন ওবামা
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের বিশৃঙ্খলা ও নিষ্ঠুরতার সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আমেরিকার মিডটার্ম ইলেকশনের আগে ডেমক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং ইরান বিষয়ক কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

শনিবার ক্লিভল্যান্ড ও ডেট্রয়েটে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন ওবামা। মিশিগানে আমেরিকান সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে তিনি ৩ নভেম্বরের ইলেকশনকে ‘সার্কিট ব্রেকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ইলেকশন ট্রাম্পের শাসনামলের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সরকারে জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। ওবামা বলেন, ‘আমাদের এই সার্কিট ব্রেকারটি চালু করতে হবে এবং বর্তমান সরকারে জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে হবে।’

জনসভায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনগণের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ তোলেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রেসিডেন্টকে আগে কখনো দেখিনি, যিনি জনগণের অর্থে এতটা নির্লজ্জভাবে নিজের পকেট ভরার কাজে লিপ্ত হয়েছেন। রিপাবলিকান দলটি দুর্নীতি, অযোগ্যতা কিংবা সরকারহীনতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্যসূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা 

ইন্টারন্যাশনাল- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত