প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:৩০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
চায়নার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে সাত মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে ১৬ জন নিহত এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নাগকু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বুরোর বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে চায়নার রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি সিনহুয়া।
সিনহুয়া আরো জানায়, শুক্রবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত আহতের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং ২১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় নিউজ মিডিয়া জানিয়েছে, উপকেন্দ্রের কাছের একটি গ্রামে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অন্তত দুই জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি উপকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের গ্রামগুলোর কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চায়নায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
চায়না ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্রের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রটি ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার একটি বিরল বসতিপূর্ণ ও উচ্চ ভূমির কাউন্টিতে, যা মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। উপকেন্দ্রের পাচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় চার হাজার ৮৬৪ মিটার।
স্থানীয় সরকারি নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অথবা রাস্তায় পার্ক করা গাড়ির ভেতর আশ্রয় নিচ্ছেন। এক জন বাসিন্দা জানান, তীব্র কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি বাড়িটি মড়মড় শব্দে কেপে উঠতে শোনেন।
সিইএনসি জানিয়েছে, স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি খুব স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছিল। উপকেন্দ্রটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত প্রস্তুত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
সিইএনসির তথ্য অনুসারে, সাত মাত্রার মূল ভূমিকম্পটির পর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তিন থেকে চার মাত্রার বেশ কয়েকটি মৃদু আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে সাত দশমিক এক মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে অন্তত দুই হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোজ হন। তথ্যসূত্র : রয়টার্স