প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:২৮ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তিউনিসিয়ার রাজধানী টিউনিসের রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন— এমন অভিযোগ তুলে তার নীতির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই গণবিক্ষোভ হয়।
টিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন (ইউজিটিটি) এবং মানবাধিকার লীগ, বার এসোসিয়েশন ও সাংবাদিক ইউনিয়নসহ একাধিক প্রভাবশালী সংগঠনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিবাদ ছিল সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। বছরের পর বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বিরোধীরা যে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে সাঈদের ক্ষমতার প্রতি এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বছরের পর বছর ধরে বিরোধে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী দলগুলো আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বেকার যুবক এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে এই বিক্ষোভে যোগ দেয়।
বিক্ষোভকারীরা ইউজিটিটির সদর দফতর মোহাম্মদ আলী স্কোয়ারে সমবেত হন এবং সেখান থেকে মিছিল নিয়ে হাবিব বোরগুইবা এভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যান। ১৫ বছর আগে এই হাবিব বোরগুইবা এভিনিউ থেকেই আরব বসন্তের দাবানল জ্বলে উঠেছিল।
রাজধানীর রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন এলাকায় শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বেশ কিছু সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ‘টিউনিসিয়া সবার আগে... জনগণের স্বার্থ সবার ওপরে’ স্লোগানকে সামনে রেখে টিউনিসিয়ার জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভকারীরা এই সমাবেশ পালন করেন।
জনতার উদ্দেশে ইউজিটিটির মহাসচিব সালাহ এদ্দিন সালমি বলেন, ‘আজ টিউনিসিয়ার সংকটের মূল কারণ হলো এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়া।’
রয়টার্সের তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারে হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ব্যাপক বেকারত্ব, বাজে নাগরিক সেবা এবং সরকারের তথাকথিত ভুয়া প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা নানা ব্যানার বহন করেন ও স্লোগান দেন। ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল, ‘স্বাধীনতা ছাড়া কোনো গণতন্ত্র নেই, দারিদ্রে?্যর মাঝে কোনো মর্যাদা নেই এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা বন্ধ করো।’ বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে স্লোগান দেন, ‘হে ব্যর্থ শাসক... পদত্যাগই একমাত্র সমাধান।’ তথ্যসূত্র : আশার্ক আল আসওয়াদ