ইওরোপীয় ইউনিয়নে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

যাযাদি ডেস্ক

বিজনেস

আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিমরফতানি ১২.৭১ শতাংশ বেড়েছেইওরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের ডেনিম রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে

2026-10-25T00:00:00+06:00
2026-10-25T15:42:24+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
বিজনেস
ইওরোপীয় ইউনিয়নে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ
যাযাদি ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৩:৪২ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম 
রফতানি ১২.৭১ শতাংশ বেড়েছে

ইওরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের ডেনিম রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ১৩৪ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে। গত বছরের আগস্টে এ রফতানির পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ইউরো।

ইওরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানির প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। এ মাসে বিশ্ব বাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ইউরোতে পৌছায়। ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ গত বছরের আগস্টের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি বছরের আগস্টে ৩১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানি ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৮৬৯ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ রফতানির পরিমাণ ছিল ৯২৩ দশমিক ১১ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ, এ সময়ে রফতানি কমেছে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো।

একই সময়ে বিশ্ব বাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৫৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে। এর ফলে, আট মাসের হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা আগের বছরের প্রায় ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তা সত্ত্বেও ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ৩৪৪ মিলিয়ন ইউরো বেশি।
ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম ডেনিম সরবরাহকারী দেশ পাকিস্তানের রফতানি আগস্টে ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ইউরোতে পৌছালেও জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে দেশটির রফতানি ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৫২৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। যা মোট বাজারের ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী টার্কি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির রফতানি আগস্টে ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে এবং আট মাসের হিসাবে রফতানি ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৪৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে, যা মোট রফতানির ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এ ছাড়া জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে তিউনিসিয়ার ডেনিম রফতানি ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ২১৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। কাম্বোডিয়ার রফতানি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৪৪ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে এবং মরক্কোর রফতানি ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

ইজিপ্ট এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে। আগস্ট মাসে তাদের রফতানি ৫৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ইউরোতে পৌছেছে এবং আট মাসের হিসাবে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ১৮৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা মোট রফতানির ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চায়নার আট মাসের রফতানি ১৭ দশমকি ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা মোট রফতানির ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
তুলনামূলকভাবে ছোট সরবরাহকারী হলেও ভিয়েতনাম ও ইনডিয়া ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আট মাসে ভিয়েতনামের ডেনিম রফতানি ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৫৩ দশমিক ৯৮ ইউরো হয়েছে। একই সময়ে ভারতের রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ৩১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে দাড়িয়েছে। পাকিস্তান, টার্কি, তিউনিসিয়া, কাম্বোডিয়া ও মরক্কোর তুলনায় বাংলাদেশের আট মাসের রফতানি হ্রাসের হার ছিল অনেক কম।
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পোশাক আমদানিতে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও সুপ্রতিষ্ঠিত সরবরাহ ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ইওরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ডেনিম উৎপাদনে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ প্রধান রফতানি বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, যা বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা প্রযুক্তিবিদ, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছি।’ তিনি বলেন, শুধু বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশে তুলা উৎপাদিত না হলেও দেশে কাপড় তৈরির শক্তিশালী সক্ষমতা ও সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পভিত্তি রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেনিম পণ্যের মান ও মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানি আয় বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

রুবেল জানান, ইওরোপের পোশাক বাজারে বর্তমান মন্দা বিভিন্ন দেশের রফতানিকারকদের ওপর প্রভাব ফেলেছে; যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি হ্রাস এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ। কঠিন বাজার পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি ইওরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তিত বাণিজ্য বিধি, জেনারালাইজড স্কিম অফ প্রেফারেন্সেস (জিএসপি)-এর শর্তাবলি এবং ‘ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল’-এর মতো বিষয়গুলোর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈশ্বিক ডেনিম শিল্পে দীর্ঘ মেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বাংলাদেশকে উচ্চ মূল্যের পণ্য, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নতুন শর্তাবলি পরিপালনের ওপর মনোযোগ দিতে হবে।
বিজনেস- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত