ছবি-যাযাদি সরকারের উচ্চশিক্ষা পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
বুধবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি সেল এ সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ইউজিসির সহযোগিতায় ইতিমধ্যে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতায় প্রায় ২৫০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতা ইউনিট স্থাপন এবং শিল্প খাতের সঙ্গে পদ্ধতিগত কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই সদস্য বলেন, শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতার সরকারের চারটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে যুক্ত করা। তৃতীয়ত, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্পের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া। চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তৈরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করা।
ইউজিসি সদস্য ড. মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করলে হবে না, তাদের চাকরি দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত ধারণা ও প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগেও নোবিপ্রবিকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ওয়াই-ফাই ও অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার জন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন তহবিলের গবেষণা বরাদ্দ প্রকল্পের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
দেশের জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীরা এই লভ্যাংশের বড় অংশ। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা, আইসিটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়েও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সকালে নোবিপ্রবি এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। সেখানে তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ চলছে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন এবং প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশাদুন নবী উপস্থিত ছিলেন।