ছবি-যাযাদি খুলনার ডুমুরিয়ায় সবজির বাজারে চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। বাজারে এমন কোনো সবজি নেই, যার দাম বাড়তি নয়। অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
তুলনামূলক কম দামের সবজি বলতে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া—দুটিই ৪০ টাকা কেজি। অন্যদিকে কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১০০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং ঝিঙা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বাকৃতির বেগুন প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকায়।
এ ছাড়া প্রতি পিস জালি ২০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৩০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা চারটি অর্থাৎ এক হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
শসা ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে কম দামের মধ্যে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি।
বাজারে সবজির দাম বাড়লেও কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম তারা সবসময় পাচ্ছেন না।
ডুমুরিয়ার শোভনা এলাকার সবজি চাষি মোল্লা লতিফ বলেন, পেঁপে, কামরাঙা, তরমুজ, কাঁকরোল, ঝিঙা, পটল ও বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক সময় দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।
সারসহ কৃষি উপকরণ সময়মতো না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চুকনগরের চাকুন্দিয়া গ্রামের কৃষক আকবার হোসেন বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এবার কাঁচা ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
অন্যদিকে মাগুরখালি এলাকার কৃষক কালিপদ জানান, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলেন। কিন্তু ভারী বৃষ্টির কারণে তার তরমুজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার বেগুন ও তরমুজ চাষ করতে চান তিনি।
এদিকে বাজারে সবজির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এক দিনমজুর লফিত বলেন, ‘বেগুন, লালশাক, পটল, পেঁপে, কলাসহ প্রায় সব সবজির দামই বেশি। পরিবারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
তবে বাজারে সবজির দাম ও কৃষকের উৎপাদনমূল্যের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।
ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।