প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
ছবি-যাযাদি কক্সবাজারের উখিয়ায় তরুণ তরুণীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আয়োজিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ( ২৩ সেপ্টেম্বর) বুধবার ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উখিয়া এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, কক্সবাজার এরিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজারের প্রতিনিধি ছোটন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, উখিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার লরেন্স মন্ডল, এপি স্পন্সরশিপ ও শিশু সুরক্ষা অফিসার লিজা সরকার, কারিতাস বাংলাদেশের ইমারজেন্সি রেসপন্স প্রোগ্রামের পরিচালক মি. লিটন গোমেজ, কারিতাস চট্টগ্রাম রিজিওনের রিজিওনাল ডাইরেক্টর মি. চয়ন হিউবার্ট রিবেরু মটসের পরিচালক মি. জেমস গোমেজ। অনুষ্ঠানটির পরিচালনা ও ট্রেনিং সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন উখিয়া এডিপি-এর জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফ্লোরা তিথি চৌধুরী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮০ জন তরুণ-তরুণীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র এবং আত্মকর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানান, এ কর্মসূচির অধীনে মোট ১৮০ জন বেকার যুবক-যুবতীকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ১৫০ জন যুবতী 'সেলাই ও ড্রেস মেকিং' এবং ৩০ জন যুবক 'হাউজ ওয়্যারিং' বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । প্রশিক্ষণ ও চূড়ান্ত অ্যাসেসমেন্ট শেষে উত্তীর্ণদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্থার পক্ষ থেকে ১৫০ জন তরুণীকে সেলাই মেশিন এবং ৩০ জন তরুণকে হাউজ ওয়্যারিং টুলস কিট প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া প্রশিক্ষণোত্তর দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপ ও টেকসই আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ভিশনের একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
বক্তারা, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এ এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, উখিয়ার মতো প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার হতদরিদ্র যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে এবং স্বাবলম্বী পরিবার গঠনে ওয়ার্ল্ড ভিশন যে ধারাবাহিক ভূমিকা রেখে চলেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিজীবনের পরিবর্তনই আনবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতির সঞ্চার করবে।
এদিকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তরুণ-তরুণীরা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।