প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
মো. নাঈমসুবর্ণচরে মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈম (১৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেকে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন নাঈমের পিতা খলিল। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে চরজব্বার থানা পুলিশ।
ইব্রাহীম খলিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে। নিহত নাঈমও একই গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার নাঈমের পিতার আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহ হলে কৌশলে তাকে আটক করে চরজব্বার থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, সোমবার রাতে নাঈম তার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মায়ের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ ইব্রাহীম খলিল নাঈমকে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির কাছের ধানক্ষেতের পাশে ফেলে রেখে যান।
এ ঘটনায় নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিলকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ জবানবন্দিতে সে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।