জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে। অস্ত্রের বদলে যুক্তি, তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতিসংঘে তারেক রহমান তিন প্রজন্মের ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার বাবা ১৯৮০ সালে এবং মা ১৯৯২ সালে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাদেরই ছেলে তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন।
জাতিসংঘে দেওয়া তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও জানিয়েছেন। বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্র, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ বেকার হয়।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো ভয় পাবেন না। ঝড় আসুক, বাতাস আসুক। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং আগুন দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারা বন্ধ করতে যারা চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি কোনো নির্বাচন ছাড়া বা ‘মিডনাইট নির্বাচন’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার ও বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপির সরকার মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য কাজ করছে।
জাতীয়তাবাদী ওলামা দলকে বিএনপি সরকারের একটি অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায় এবং একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল ও বিএনপি রাস্তায় রাস্তায়, পথে প্রান্তরে কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।
এ সময় বিএনপি স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।