প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম

নাটোরে দুই শিশুর মধ্যে বিরোধের জেরে মাহমুদ (৭) নামের এক শিশুর ডান হাতের আঙুলের মাথার অংশ কেটে ফেলার ঘটনায় পুলিশ সদস্য শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের বড়হরিশপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে হয়। এর আগে ওই শিশুর বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন সদর থানায় তাদের নামে মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার পুলিশ সদস্য নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাসায় ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী রাশেদা আক্তার ঘরোয়া পিকনিকের আয়োজন করেন। এসময় বাড়ির মালিকের ছেলে মাহমুদের সাথে পুলিশ সদস্য শাকিলের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে শিশুর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি উভয় শিশুর মা মীমাংসা করে দেন। এ ঘটনার বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে শিশু মাহমুদকে জোর করে নিজ রুমে নিয়ে যান পুলিশ সদস্য শাকিল। সেখানে ধারালো বটি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের শাহাদাৎ আঙুলের মাথা কেটে দেন। এসময় শিশুটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে আঙ্গুল কেটে দেওয়ার পরে পুলিশ সদস্য শাকিল পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ করেন তার মেয়েকে বাড়ী মালিকের ছেলে যৌন নিপিরন করেছে। তাই তারা বাড়ীতে তালা দিয়ে বেরিয়ে এসেছেন।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ওই কন্সটেবলের বাসায় গিয়ে ঘরে তালা দেয়া দেখতে পান। পরে তারা তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মেঝেতে রঙ্গের দাগ এবং কোনায় ওই শিশুর কেটে নেওয়া আঙ্গুলের অংশ দেখতে পান।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আহত শিশুর বাবা মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।