
পর্যটন শুধু ভ্রমণের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক খাতে পরিণত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে নিজেদের গত ১৪ বছরের পথচলাকে যুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য আরও দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তোলার প্রত্যয় কাজ করে চলছে ছুটি গ্রুপ।
২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা ছুটি রিসোর্ট লিমিটেড গত ১৪ বছরে দেশের আতিথেয়তা ও পর্যটন খাতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ISO 9001:2015 সনদপ্রাপ্ত, যা এর সেবার মান ও পরিচালনা প্রক্রিয়াকে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৫ সালে পরিচালিত একটি অনলাইন জরিপে ঢাকার নিকটবর্তী best leading রিসোর্ট হিসেবে ছুটি রিসোর্ট অর্জন করে "Bangladesh Travel, Tourism & Hospitality Award 2025", যা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান সম্পর্কে ভ্রমণকারীদের আস্থার একটি স্বীকৃতি।
বর্তমানে ছুটি রিসোর্টের চারটি গন্তব্য রয়েছে- ছুটি রিসোর্ট গাজীপুর, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচল, ছুটি রিসোর্ট পুবাইল এবং ছুটি ফরেস্ট ঈগল রিসোর্ট। এই সময়ে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ ছুটি রিসোর্টের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ করেছেন। তবে ছুটির সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ বা স্বীকৃতি নয়; অতিথিদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি এবং তাদের জন্য পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মরণীয় সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তৈরি করা।
বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা শুধু পরিচিত কয়েকটি গন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার, জীবনযাপন ও মানুষের গল্পকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
সরকারও দেশের পর্যটন খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালে পর্যটন খাতের জিডিপি অবদান বর্তমান প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য এবং দেশের প্রায় ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজির ৮.৯ লক্ষ্যের সঙ্গেও পর্যটন খাতের এই অগ্রাধিকার সরাসরি সম্পর্কিত। ২০৩০ সালের মধ্যে এমন টেকসই পর্যটন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পর্যটন গন্তব্য, মানসম্মত আতিথেয়তা অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ধারাবাহিকতায় ছুটি গ্রুপ আগামী দিনের পর্যটন উন্নয়নের জন্য একাধিক নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পুবাইলে ছুটি সিগনেচার, পূর্বাচলে ছুটি হারমনি, কক্সবাজারের ইনানীতে ছুটি বিচ রিসোর্ট, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সালতানাত হাইওয়ে ভিলেজ এবং শ্রীমঙ্গলে সালতানাত টি রিসোর্ট। ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য অনুযায়ী এসব প্রকল্পে ভিন্নধর্মী পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরির পাশাপাশি আতিথেয়তা খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার মধ্যে সকলের একসঙ্গে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রকৃতি বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম বড় সম্পদ। তাই অবকাঠামো তৈরির সময় প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। এই লক্ষ্যেই ছুটি রিসোর্টের কার্যক্রমে বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিধি বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতির নিজস্ব চরিত্র ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য "প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পর্যটন।" এ বাস্তবতায় ভবিষ্যতের পর্যটন শুধু নতুন গন্তব্য তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দায়িত্বশীল পর্যটন, স্থানীয় সংস্কৃতি, মানসম্মত আতিথেয়তা এবং নতুন ধরনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই ভবিষ্যতের পর্যটন শিল্পের ভিত্তি তৈরি করবে।
১৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ছুটি রিসোর্টের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তাই শুধু আরও রিসোর্ট তৈরি করা নয়। বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে নতুন পর্যটন গন্তব্য তৈরি, কর্মসংস্থান বাড়ানো, স্থানীয় অর্থনীতিকে সম্পৃক্ত করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে একটি টেকসই পর্যটন বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা।
ছুটি গ্রুপ মনে করে, বাংলাদেশের পর্যটনের ভবিষ্যৎ শুধু আরও বেশি পর্যটকের মধ্যে নয়; বরং আরও ভালো গন্তব্য, আরও ভালো অভিজ্ঞতা, আরও বেশি কর্মসংস্থান এবং প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে আরও দায়িত্বশীল সম্পর্কের মধ্যে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে ছুটি রিসোর্টের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে ২০৩০ সালের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আরও শক্তিশালী, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হবে।