নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছাম্মৎ সালেহা খাতুনের বাড়িতে রাতে গিয়ে তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই যুবককে মারধর এবং ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল গণি (৪০) নামে এক ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় আব্দুল গণি দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোস্তফা হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সালেহা খাতুনের বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সালেহা খাতুনের ছেলেকে খুঁজতে থাকেন। ছেলে বাড়িতে না থাকায় তিনি ঘরের টিনের বেড়া ও বিভিন্ন আসবাবপত্রে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ক্ষতিসাধন করেন।
ভুক্তভোগী সালেহা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজা খোলার পর ছেলের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। ছেলে বাড়িতে নেই জানালে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘সকালে তোমার ছেলের লাশ পাবে।’ পাশাপাশি ছেলের দুই পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
সালেহা খাতুন আরও বলেন, তিনি তখন বাড়িতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাইরে থেকে দরজা খোলার জন্য ডাকতে থাকে। দরজা খুললে তার ছেলেকে কোথায় জানতে চায়। তিনি ছেলে বাড়িতে নেই জানালে তাকে সকালে ছেলের লাশ পাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় সালেহা খাতুনের ছেলেকে পেয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হামলার শিকার যুবকের অভিযোগ, আলামিন নামে একজন তাকে মারধর করেন। এতে তার নাকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
পরে আলামিন বিষয়টি মোস্তফাকে জানালে মোস্তফা ও আলামিন মোটরসাইকেলে করে লাঠি নিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে যান এবং তাকে খুঁজতে থাকেন। ভয়ে সালেহা খাতুনের ছেলে একটি দোকানে গিয়ে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে নিরাপত্তা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়দের সামনে থাকা অবস্থাতেও মোস্তফা ও আলামিন তাকে আবার মারধর করেন।
সালেহা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখেন কয়েকজন মুরুব্বি তার ছেলেকে নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে আনছেন। ছেলেকে মারধর করা হয়েছে দেখে তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। যারা তার ছেলেকে মারধর করেছে, তিনি তাদের বিচার দাবি করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে আব্দুল গণিকে জানানো হলে তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে মোস্তফার কাছে গিয়ে কেন মারধর ও ভাঙচুর করা হয়েছে, তা জানতে চান। এ সময় মোস্তফা উত্তেজিত হয়ে আব্দুল গণিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সালেহা খাতুন বলেন, ‘আমি একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি। আমার বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। আমার সম্মান নিয়েও নানা ধরনের কথা বলা হয়েছে। আমি একজন নারী হিসেবে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কেউ যেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন করতে না পারে—এটাই আমার দাবি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা ও আলামিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।