প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ০১.১০.২০২৬ ৪:০৭ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু * মাগুরায় ‘ভুতুড়ে’ বিল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমসহ দুই জন সাসপেন্ড ও তিন জনকে শোকজ
* দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল কাণ্ডে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ দুই জনকে সাসপেন্ড এবং তিন জনকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গল ও বুধবার যায়যায়দিনের প্রকাশিত ‘২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা’ এবং ‘১৯৬৩ টাকার সংশোধিত বিল দিলেন সেই গ্রাহক’ নিউজ দুটি ‘টক অফ দি কান্টৃ’তে পরিণত হয়। এরপর মাগুরাসহ সারা দেশে আলোচনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদর দফতরও নড়েচড়ে বসে।
মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের আবাসিক মিটারে ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর যা বিলম্ব মাশুলসহ দাড়ায় ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। চাঞ্চল্যকর এই ভৌতিক বিলের বিষয়টি যায়যাদিনের নজরে এলে গত সোমবার সকালে আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে খোজ-খবর নেয়া হয়। এরপর গত মঙ্গল ও বুধবার যায়যায়দিনে খবর প্রকাশের হওয়ার পর সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তোলপাড় শুরু হয় খোদ বিদ্যুৎ বিভাগে। যায়যায়দিনের নিউজের প্রভাবে নজিরবিহীন দ্রুততায় সংশোধন করা হয় বিলটি। ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন গত মঙ্গলবার সকালে এক হাজার ৯৬৩ টাকার সংশোধিত বিলটি আড়পাড়া জোনাল অফিসের ক্যাশ শাখায় পরিশোধ করেন।
গত মঙ্গলবার আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম), বিলিং সুপারভাইজার, বিলিং সহকারী এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
এ ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সাময়িক বরখাস্তভাবে করা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, যশোরের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলীর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিনই তাকে যশোরে যোগদান করতে বলা হয়েছে। বুধবার সকালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার (অ.দা.) এস. এম. শাহিন আহসান।
আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। তাকে ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার কর্তৃক আড়পাড়া জোনাল অফিসের বিলিং সুপার ভাইজার সিমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মো. তুরাপ আলীকে কারণ দর্শানোর শোকজ দেয়া হয়েছে।
অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফোন আলাপে মন্ত্রী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’