বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ* চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন রূপ চাপিয়ে দেয়াটা সাম্রাজ্যবাদীর অংশ
* ৪৭ ও ৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে
বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এ চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ভেতরেই যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য।
চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন রূপ চাপিয়ে দেয়াটা সাম্রাজ্যবাদী অংশ
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন নতুন রূপ চাপিয়ে দেয়াটা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ। খুন আর রক্ত কিংবা লাশের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দগুলোর বদলে অন্য শব্দ বসানোর সূক্ষ্ম চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এ জাতির সংগ্রামের ইতিহাস আছে, ভাষার জন্য রক্ত দেয়ার ইতিহাস আছে। ফলে যে কোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার এক অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা এ জনগোষ্ঠীর রক্তে রয়েছে।’
বুদ্ধিজীবী সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের তোষামোদি করেছে। অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক নামজাদা বুদ্ধিজীবী লাইন ধরেছিলেন, আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে তা দেখা গেছে। তারা নিখোজ, গুম বা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি। অথচ দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা চিরকাল মাটির মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন।’
৪৭ ও ৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই দেশে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসা’ সামগ্রিক অর্থে কোনো পূর্ণাঙ্গ রেনেসা ছিল না। এটি মূলত হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থেকে যায়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রবাহ এবং ৪৭ ও ৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে।”
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি ও বিএনপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-গবেষক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুস্তফা মজিদ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও প্রখ্যাত চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। এ ছাড়া সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংবাদিক-ডিপ্লোম্যাটিক গাজীউল হক, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান
এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাই এগিয়ে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। এ জন্য জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি, নালা-নর্দমা, ড্রেন-খালসহ এডিস মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।’
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি হসপিটালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে। পাশাপাশি সিটি কর্পরেশনগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় রাখা হয়েছে।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জনদুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর এ বিষয়ে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।