প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম
ছবি-যাযাদি মাদক আমাদের দেশে মহামারি আকার ধারণ করছে। মাদক এর সাথে ক্রাইম সম্পৃক্ত। যারা মাদক ও ক্রাইমের সাথে জড়িত, যারা দুষ্টু লোক তাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে যাতে কেউ অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। এর নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে সরকার। মাদক, কিশোর গ্যাংসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ও এসআরবি টহল বাড়ানো হচ্ছে, দেশব্যাপি ১২৫ টি নতুন থানা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পের মানুষ অমানবিক জীবনযাপন করে। বিহারী ক্যাম্পে ড্রাগ ক্রাইম ছাড়াও নানাবিধ অপরাধ সংগঠিত হয়। মাদক বিক্রির হট স্পট এই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের পূণর্বাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতি ও সামাজিক আন্দোলন এক সাথে চালাতে হবে। আজ (০৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কপোর্রেশনে (এফডিসি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মাদকের কারণেই সমাজে বেশিরভাগ ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের মত ঘটনা ঘটছে। মাদকের ভয়াল থাবায় পারিবারিক কলহ, চুরি—ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সাইবার অপরাধসহ ব্লাকমেইলিং এর মত সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিজের মা—বাবা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই—বোনকেও হত্যার মতো ঘটনাও অহরহ ঘটছে। মাদক এখন বহুমাত্রিক সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রাম—গঞ্জে, পাড়া—মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পেঁৗছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে তারা নিজেদের রাজনৈতিক রং পালটে মাদক ব্যবসাসহ নানাধরণের অপরাধ করে থাকে। বিগত শাসন আমলে যারা মাদক ব্যাবসাসহ নানা ধরনের অপকর্ম করেছে তারাই এখনো মাদক কারবারসহ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত। আমাদের তরুণ যুবকদের মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়–ক তা আমরা চাই না। আমরা চাই আমাদের কিশোর তরুণরা লেখাপড়া করবে, গবেষণা করবে, রোবোটিক যুগে প্রবেশ করবে, কৃত্তিমবুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে।
“মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন বেশি কার্যকর” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজকে পরাজিত করে সরকারি দল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক জামিউল আহসান শিপু, সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, সাংবাদিক মো: আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।