গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় ৩২ রুটে চলবে কোম্পানির বাস

যাযাদি অনলাইন

জাতীয়

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২টি বাস রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি

2026-10-09T14:59:03+06:00
2026-10-09T14:59:03+06:00
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
জাতীয়
গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় ৩২ রুটে চলবে কোম্পানির বাস
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম  
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২টি বাস রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি রুটে এ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বাস রুট পুনর্বিন্যাস, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, বাস স্টপেজ উন্নয়ন, টিকিট ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাসের মান উন্নয়নসহ গণপরিবহনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলাচল করে। ছোট ছোট রুট এবং একাধিক রুটের মধ্যে ওভারল্যাপিংয়ের কারণে যাত্রী ওঠানো নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি বদলাতে সচল রুটগুলো সমন্বয় করে ৩২টি রুটে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। ব্যক্তিমালিকানায় বাস পরিচালনার পরিবর্তে অনুমোদিত কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে। বাসের ফিটনেস, চালকের আচরণ, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে।

যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ তৈরি ও উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের বিবরণসহ বাস স্টপেজের তালিকা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হবে। তিন মাসের মধ্যে স্টপেজগুলোর নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টপেজে যাত্রী ছাউনি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও থাকবে।

বাস পরিচালনায় কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাস চলাচল পর্যবেক্ষণ ও যাত্রীসেবায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্য রয়েছে।

ঢাকার সড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জীর্ণ বাসের কারণে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে সভায় আলোচনা হয়। এসব বাসের প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক মেরামত এবং ডেন্টিং-পেইন্টিংয়ের জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত না করা বাস চলাচল করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দীর্ঘদিন এসব যানবাহন পড়ে থাকায় জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নিলাম বা অন্য আইনি প্রক্রিয়ায় যানবাহন নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার আটটি রুটে এসব বাস চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত রুট চূড়ান্ত করা হবে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ছয় মাসের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলোর দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
  বিষয়:   ঢাকা  গণপরিবহন  বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি  সড়ক পরিবহন 


জাতীয়- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত