প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীতমানিকগঞ্জের সিংগাইরে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে রাশেদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩২) পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের মৃত ছোরমান আলীর ছেলে। তিনি দুই সন্তানের বাবা। সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হাসনা আক্তার ভারটেক্স গার্মেন্টসে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৯ সালে বিভিন্ন জেলার ১২ জন মিলে দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেখানে নয়টি পরিবার বসবাস করছে। রাশেদুল ও হাসনার পরিবারও ওই এলাকায় থাকত।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাশেদুল ও হাসনার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো।
প্রতিবেশী এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাশেদুলের দুই সন্তানের চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান। এ সময় বাড়ির বাইরে রাশেদুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার হাতে ছুরি ছিল বলেও দাবি করেন ওই নারী। পরে সন্তানদের মাধ্যমে ঘরের তালা খুলে রাশেদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বাড়ির পাশের সড়কে আনা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় হাসনা পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহতের ছেলে আবুল হাসান দাবি করে, রাতে সে বাবার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। পাশের কক্ষে মা ও বোন ঘুমাচ্ছিল। ভোররাত চার টার দিকে বাবার চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। তখন বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং মাকে হাতে রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার মা বাবাকে উদ্দেশ করে পরকীয়ার সম্পর্কের কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও দাবি করে আবুল হাসান।
নিহতের মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমাইয়া জানায়, তার মা আগে থেকেই একটি ছুরি আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছুরিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে মা সেটি দিয়ে তার জন্মদিনের কেক কাটবেন বলে জানিয়েছিলেন। ওই ছুরি দিয়েই তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি রুমাইয়ার।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।