যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও গাজার ভবিষ্যৎ অন্ধকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পেরিয়ে গেলেও উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতি চুক্তির

2026-10-08T18:13:43+06:00
2026-10-08T18:13:43+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও গাজার ভবিষ্যৎ অন্ধকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম  
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পেরিয়ে গেলেও উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজার প্রাথমিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি এখনো দায়িত্ব নিতে পারেনি। কমিটির সদস্যরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন এবং গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির গাজায় প্রবেশ করতে না পারা উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যাদের গাজা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা, তারা এখনো সেখানে ঢুকতে পারছেন না। অন্যদিকে গাজার প্রশাসন ও পুনর্নির্মাণের শর্তগুলো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় গত জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সাবেক উপমন্ত্রী ও প্রকৌশলী আলী শাথের নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ গঠন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত এই কমিটিকে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত গাজার রূপান্তর পর্যবেক্ষণের জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’কে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিকে জায়গা করে দিতে হামাস গত জুলাইয়ে তাদের শাসন পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেয়। কিন্তু ইসরায়েল এখনো কমিটিকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র পেছনে গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে তারা উপত্যকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ দারাগমেহ আবু আলানের মতে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ থেকে শুরু করে তাদের শেষ সুড়ঙ্গ ধ্বংসের মতো শর্তগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা কঠিন। ফলে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি বাফার জোন ধরে রাখা এবং গাজার ভেতর থেকে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আবু আলানের ভাষ্য, গাজা প্রশাসনিক কমিটিকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অন্যতম শর্ত হলো, গাজায় যেকোনো তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্বাধীনতা বজায় রাখা। তাঁর মতে, এই শর্তগুলোই গাজার জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানের পথে বড় বাধা।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত আগস্টে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল পিছু হটবে না। আবু আলানের মতে, গাজায় প্রশাসনিক কমিটির পথ খুলে দিতে হামাস তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করলেও ইসরায়েল সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর এ ধরনের পদক্ষেপকে লেবাননে হিজবুল্লাহর কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাসকে তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সংস্থাটি গাজায় ‘এক কর্তৃত্ব, এক আইন ও এক অস্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কাররার ধারণা, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং প্রশাসনিক কমিটিকে গাজার বাইরে রাখার বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এবং ইসরায়েলের নতুন সরকারের রূপ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আল-কাররা বলেন, সরকার পরিচালনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের জন্য হামাস প্রশংসার দাবিদার হলেও আলী শাথের নেতৃত্বাধীন কমিটি এখন পর্যন্ত খুব বেশি কার্যকর কাজ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, কমিটি বাস্তব পদক্ষেপের বদলে দীর্ঘ সময় আলোচনায় কাটিয়েছে।

আবু আলান ‘বোর্ড অব পিস’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া এবং ইসরায়েলি অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও অবরোধের বিষয়ে নীরব থাকার কারণে সংস্থাটি ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, কমিটিটি এখনো এমন একটি অস্পষ্ট কাঠামো, যার বাস্তব অস্তিত্ব খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ফিরে আসার পথ

সংঘাতবিষয়ক গবেষক সাইদ আবু রহমার মতে, গাজাকে আলাদা কোনো প্রশাসনিক সত্তা হিসেবে দেখার বদলে পশ্চিম তীরের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বাদ দিয়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা কঠিন। একইভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক ছাড়া গাজার ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা কঠিন।

রামাল্লার অবস্থানও একই ধরনের। ফাতাহর মুখপাত্র ও রেভল্যুশনারি কাউন্সিলের সদস্য মুনসুর আল-হায়েক বলেন, ফিলিস্তিনিরা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় গণহত্যা বন্ধের স্বার্থে বাধ্য হয়ে পিএ ‘বোর্ড অব পিস’ ও এর অধীন কমিটিকে মেনে নিয়েছে। তাঁর মতে, শুরু থেকেই সবচেয়ে ভালো সমাধান ছিল হামাস ও ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া।

আল-হায়েকের মতে, এখন জাতীয় কমিটি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের প্রাথমিক কাজ সামলাতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পূর্বপ্রস্তুত পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজার পূর্ণ পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে।

তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইনি এখতিয়ারের অধীনে পুনরায় একীভূত করার কথা বলেন। পিএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ২০০৬ সালের পর এটিই হবে প্রথম আইনসভা নির্বাচন। ওই নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হয় এবং ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

অন্যদিকে ইসরায়েল আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ সতর্ক করেছে, দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী এক মাসে নতুন ইসরায়েলি সরকারের পক্ষে নিজেদের নীতি নির্ধারণ করা কঠিন হবে। এতে ফিলিস্তিনি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আল-হায়েক আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হলে তা নেতানিয়াহু সরকারের তুলনায় কম ক্ষতিকর হবে। তবে আবু আলান এ ধরনের পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী নন। তাঁর মতে, ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাবর্তন মেনে নেবে না। কারণ, এর ফলে পশ্চিম তীর ও গাজা একটি রাজনৈতিক সত্তায় পরিণত হওয়ার পথ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

আবু আলানের মতে, ইসরায়েলের এই অবস্থান পরিবর্তনে কার্যকর চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। হামাস, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব-ইসলামিক দেশ কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একার পক্ষে ইসরায়েলের অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন।

আল-কাররা অবশ্য হামাস জনসমর্থন হারিয়েছে- এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, পশ্চিম তীরে ফাতাহও ইসরায়েলি বসতি ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবু আলানের মতে, গাজার ভবিষ্যৎ কেবল কার হাতে ক্ষমতা থাকবে, তার ওপর নির্ভর করছে না। বরং কে শাসন করবে, কে পুনর্নির্মাণের অর্থ দেবে, কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণকারী চুক্তিই গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাশূন্যতা

মানবাধিকারকর্মী হোসেন হামাদের মতে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো ঐক্যবদ্ধ সরকারের অনুপস্থিতিতে ফিলিস্তিনিরা একদিকে যুদ্ধ ও ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক শূন্যতায় পড়েছে। তাঁর মতে, গাজার স্থানীয় জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পুনর্বাসনের কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া কঠিন হচ্ছে এবং সীমিত সম্পদের বিপরীতে বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন শেল্টার ক্লাস্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বিশ্ব ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইপিসি) জানিয়েছে, ১২ লাখের বেশি মানুষ চরম খাদ্যসংকটের মুখে রয়েছে।

হোসেন হামাদ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান মানবিক সংকটে ত্রাণ বিতরণের সক্ষমতা থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউএনআরডব্লিউএ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সংস্থাটি অর্থসংকটে পড়েছে এবং গত জানুয়ারিতে ৬০০ কর্মী ছাঁটাইসহ গাজায় কর্মীদের বেতন কমাতে হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউনিসেফ, আরব প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলো ইউএনআরডব্লিউএর ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করলেও তাদের কাছে একই মাত্রার জনবল, তথ্যভান্ডার ও অবকাঠামো নেই। হামাদ বলেন, মাঠপর্যায়ে এসব সংস্থা প্রয়োজনের ১০ শতাংশেরও কম পূরণ করতে পারছে।

গাজার পুনর্নির্মাণও এখনো কার্যকরভাবে শুরু হয়নি। ‘বোর্ড অব পিস’ গত সেপ্টেম্বরে কার্যক্রম শুরুর জন্য ২৪৫ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে গত এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গাজার পরবর্তী দশকের পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭১৪০ কোটি ডলার। ফলে ঘোষিত অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

আবু আলানের মতে, হামাসের অস্ত্র কমানো বা নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজার পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়—এমন অবস্থান ইসরায়েল ও ‘বোর্ড অব পিস’ উভয়ের। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল গাজাকে এমন একটি অবস্থায় রাখতে চাইছে, যাতে সেখানকার বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত সেপ্টেম্বরে বলেন, ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর ছাড়া গাজার কোনো বাস্তব সমাধান নেই। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, রাফাহ ক্রসিংয়ে ইসরায়েলের বহির্গমন নীতিও ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসার চেয়ে বেশি সংখ্যায় গাজা ছাড়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ফাতাহও মনে করছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে। আল-হায়েকের ধারণা, ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ‘বোর্ড অব পিস’-এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। কারণ প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হলে বাস্তব উন্নতির সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, তিন বছর ধরে যুদ্ধ ও ধ্বংসের পর গাজার সাধারণ মানুষ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহনশীলতার সীমা প্রায় শেষ। শেষ পর্যন্ত গাজার স্থায়ী শাসনব্যবস্থা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সম্মতির ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে হবে।

আল-হায়েকের ভাষায়, গাজা পরিচালনার দায়িত্ব এমন কোনো সংস্থার হাতে দেওয়া উচিত নয়, যা সামরিক শক্তির মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বা বাস্তবতা বিবেচনা না করে আন্তর্জাতিক কোনো প্রস্তাবের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।


দ্য নিউ আরব থেকে অনূদিত
  বিষয়:   গাজা  ইসরায়েল  ফিলিস্তিন  যুদ্ধ  যুদ্ধবিরতি 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত