বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ ও ‘দীর্ঘ’ হয়েছে। তবে এতে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। ঢাকায় থেকে সোমবার রাতে তিনি নয়াদিল্লি যান। তিন দিনের পরামর্শ বৈঠকে অংশ নিতে তার এই সফর বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার বর্তমান অবস্থান ভারতীয় নেতৃত্বকে জানাতেই ত্রিবেদীর এ সফর।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর মধ্যেই মোদি-ত্রিবেদীর বৈঠক হলো। এর আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সফরের সময় ও এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও কয়েক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন, দুই নেতার বৈঠকের জন্য তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই এবং সময় উপযোগী হলে সফর হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সম্প্রতি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধান মন্ত্রীর ভারত সফর হবে।
এদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে নয়াদিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে আলোচনা এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ও অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্য, পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের এজেন্ডা নিয়েও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে এর আগে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
গত মাসে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে এবং সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোদির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ত্রিবেদী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ভারতীয় হাইকমিশন বা প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বৈঠকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।