প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
ছবি: যাযাদিসিরাজগঞ্জে পৃথক তিনটি মাদক মামলায় পাচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-এক আদালতের বিচারক বেগম লায়লা শারমিন পৃথক তিন মামলায় এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি শামচুজ্জোহা শাহানশাহ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পুরাতন আজমপুর গ্রামের মো. আলম হোসেনের ছেলে মো. মানিকুর রহমান মানিক (২৫) এবং একই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মো. আশিক (২০)। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত এক টা ২০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়ার মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালায় পুলিশ। সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হাজী ইমান আলী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে মানিক ও আশিকের দুই সিটের মাঝখানে রাখা একটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন।
অন্যদিকে, সলঙ্গা থানার আরেকটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার গঞ্জেশিবপুর গ্রামের মো. মাজেদ আলীর ছেলে মো. আবদুর নয়ন এবং ফরিদপুর গ্রামের মো. মইজুদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ। তারাও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের সাত আগস্ট সকাল আট টার দিকে সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় পরবত চায়ের দোকানের সামনে র্যাব-১২-এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় আমবোঝাই একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে আসামিদের কাছ থেকে ৫৫০ বোতল ফেনসিডিল, একটি আমবোঝাই ট্রাক, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ পাচ হাজার ৬৬৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া চৌহালী থানার একটি মাদক মামলায় মো. তোফাজ্জল হোসেন (৪৫) নামের আরও এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি চৌহালী উপজেলার চর শিমলাবাদ সরকারপাড়া গ্রামের মৃত নজরুল হক সরকারের ছেলে। তিনিও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর চৌহালীর সিমলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ২৯ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পুরোনো বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত পৃথক তিনটি মামলায় এ রায় দেন।