‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও’- রাতে লাইভ লোকেশন পাঠায় তাজমিন, সকালে মিলল মরদেহ

যাযাদি অনলাইন

সারাদেশ

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর কয়েক

2026-10-09T15:09:18+06:00
2026-10-09T15:09:18+06:00
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও’- রাতে লাইভ লোকেশন পাঠায় তাজমিন, সকালে মিলল মরদেহ
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম  
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে গভীর রাতে বাবার মুঠোফোনে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল সে। তবে ঘুমিয়ে থাকায় রাতে বার্তাটি দেখতে পাননি বাবা আব্দুল আলীম। সকালে মেসেজ দেখে লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌছে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তিনি।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীম জানান, গত চার অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয় তাজমিন। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে ওঠে তাজমিন।

মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগ করতে না পেরে রাতে কয়েকবার ফোন করেন আব্দুল আলীম। তাজমিন ফোন না ধরায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে রাত আনুমানিক পৌনে দুই টার দিকে বাবার ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠায় সে। বার্তায় দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় তাজমিন।

কিন্তু গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি বাবা। সকালে মুঠোফোনে মেসেজটি দেখে লোকেশন অনুসরণ করে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেতে পৌঁছান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন, পুলিশ তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের গতিবিধি সম্পর্কে হাইওয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেলের সামনে একা নামে তাজমিন।

এরপর হোটেলের পাশের কয়েকটি খাবার ও স্টেশনারি দোকানের সামনে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। রাত ১২টার দিকে একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে এবং মুঠোফোনে কিছু একটা দেখায় সে। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেল এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায় তাকে।

তবে হোটেল এলাকা থেকে তাজমিন কীভাবে এবং কার সঙ্গে লালমাইয়ের জগতপুর গ্রামের নির্জন ফসলি মাঠে পৌছায়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে তাজমিনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলের অন্তত চার-পাঁচটি জমিতে ধানগাছ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব আলামত থেকে সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরদেহের পাশে একটি নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল। কিছু দূরে পাওয়া যায় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মরদেহের গলায় গামছা প্যাচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং নির্যাতনের অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, বাস থেকে নামার পর তাজমিনের গতিবিধি এবং ধানক্ষেতে পৌছানোর আগের ঘটনাপ্রবাহের সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড়ভাবে কাজ করছে। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
  বিষয়:   কুমিল্লা  তাজমিন হত্যা  লালমাই  পুলিশি তদন্ত 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত