স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে চায় সরকার

যাযাদি রিপোর্ট

জাতীয়

দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন

2026-10-09T20:07:40+06:00
2026-10-09T20:20:55+06:00
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
জাতীয়
মাহ্দী আমিন
স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে চায় সরকার
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম  আপডেট: ০৯.১০.২০২৬ ৮:২০ পিএম 
ছবি: সংগৃহীত
দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, স্থাপত্য শিক্ষা ও স্থপতিদের পেশাকে সরকার অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করে। দেশের মেধাবী স্থপতিরা যাতে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক স্থপতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। সরকার চায়, বর্তমান প্রজন্মের স্থপতিরাও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুক। দেশের স্থপতিরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, সেটিই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের বয়স এখন আট মাস। এ সময়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সমস্যা সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের গৃহীত নীতির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নতুন পরিচয় তুলে ধরতে স্থপতিদের মেধা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এমন দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন স্থাপত্যকর্ম গড়ে তুলতে হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমৃদ্ধ করবে।

এই রূপান্তরে সরকারি খাত সহায়ক নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় সরকার। দেশীয় স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতায় তাঁরা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সাফল্য অর্জন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশি স্থাপত্য ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সমর্থন থাকবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থাপত্যকে জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বিশেষায়িত ও সৃষ্টিশীল পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থাপত্যের মধ্যে সময়ের সারমর্ম, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্বের উন্নত চর্চাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের স্থপতিরা নিজেদের সংস্কৃতি ও শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

প্রতি বছর দেশে প্রায় এক হাজার নতুন স্থাপত্য স্নাতক বের হচ্ছেন উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এ ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তরুণ স্থপতিদের জন্য দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে বাংলাদেশি স্থপতিরা দেশে শিক্ষা ও ডিগ্রি অর্জন করেও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের বাইরে বড় বড় নকশা ও স্থাপত্য প্রকল্প পরিচালনা করতে পারেন। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশি স্থাপত্য ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার সার্বিক মূল্যায়নের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, মানসম্মত লাইব্রেরি ও স্টুডিও, প্রয়োজনীয় স্থাপত্য সরঞ্জাম, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং স্থাপত্য শিক্ষার জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

লন্ডন ও নিউইয়র্কের আইকনিক স্থাপনাগুলোর উদাহরণ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্বমানের স্থাপনা নির্মাণের সক্ষমতা বাংলাদেশি স্থপতিদেরও রয়েছে। তাঁদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, স্থাপত্যের কাজ যেন কেবল বর্তমানের প্রয়োজন পূরণে সীমাবদ্ধ না থাকে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি আধুনিকতার সঙ্গে দেশীয় শেকড়, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আইএবির সভাপতি স্থপতি প্রফেসর ড. শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম।
  বিষয়:   মাহ্দী আমিন  স্থাপত্য  বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬  আইএবি 


জাতীয়- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত