এলজিইডি'র এলসিএস প্রকল্পে আয়নাবাজি, নিয়ম খাতা কলমে বন্দি ক্ষতির মুখে হতদরিদ্ররা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গ্রামীণ অসহায়, বিধবা, দুস্থ নারী ও হতদরিদ্র নারীদের জন্য চালু করা এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) প্রকল্পের অর্থ পকেটে

2026-10-10T13:38:32+06:00
2026-10-10T13:38:32+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
এলজিইডি'র এলসিএস প্রকল্পে আয়নাবাজি, নিয়ম খাতা কলমে বন্দি ক্ষতির মুখে হতদরিদ্ররা
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম  
সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গ্রামীণ অসহায়, বিধবা,  দুস্থ নারী ও হতদরিদ্র নারীদের জন্য চালু করা এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) প্রকল্পের অর্থ পকেটে তোলার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এমনকি ভুয়া তালিকা তৈরি করে পুরোনো নারী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।  

এলজিইডির (এলসিএস) প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকে দুস্থ, অসহায়, বিধবা নারীরা আবেদন  করবে। সেখান থেকে তালিকা যাচাই-বাছাই  করে সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরন করবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য এবং এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই-বাছাই করার কড়া বিধান রয়েছে। 

সারাজীবনে মাত্র একবার সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য প্রকল্পে কাজ করতে পারবে একজন দুস্থ নারী। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারী স্থানীয় দালালের যোগসাজশে এই নিয়ম নামমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

কিন্তু খোজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সারিয়াকান্দির মাঠ পর্যায়ে একটি একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে উঠেছে , যারা জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এই নিয়মকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলেছে। এই ধারাবাহিক জালিয়াতির মূল চালিকা শক্তি হলো প্রকল্পের মেয়াদ শেষে পাওয়া মোটা অঙ্কের এককালীন সঞ্চয়। এলসিএস প্রকল্পের ৩ বছরের মেয়াদ শেষে প্রত্যেক শ্রমিকের অনুকূলে ১ লাখ ১১ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন সঞ্চয় পরিশোধের বিধান রয়েছে। পুরনো ও অভিজ্ঞ এই চক্রটি বারবার এই লোভনীয় অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেই টাকা উত্তোলনের সময় মাঠ কর্মীরা মাথা পিছু ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বঞ্চিত নারী অভিযোগ করে বলেন, যারা গত ৩ বছর ধরে কাজ করেছে, তারাই এখন মেয়ে, ছেলের বউ কিংবা আত্মীয়দের নামে নতুন তালিকায় ঢুকে পড়েছে। আমরা অফিসে ঘুরেও কাজ পাচ্ছি না, কারণ আমাদের দেয়ার মতো দালালের উৎকোচের টাকা নেই।

সদর ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের পারভীন বেগম নিজের নামে একটানা ৩ বছর কাজ শেষ করেছেন। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। এবার নিজের মেয়ের নামের কোটায় তালিকাভুক্ত হয়ে মাঠের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি নিজেই।

পৌরসভার হিন্দুকান্দি গ্রামের ৫০ বছর বয়সী বিলকিস বেগম বিগত ৬ বছর ধরে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও এবার তিনি নিজের পরিচয় আড়ালে রেখে ছেলের বউ মিষ্টি বেগমের নামে কাজটি বাগিয়ে নিয়েছেন।

ফুলবাড়ি ইউনিয়নের খুকি বেগম হাটশেরপুরে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে নিজের ৩ বছরের মেয়াদ শেষে এখন মেয়ে মাহমুদা বেগমের নামে কাজ করছেন। একই কায়দায় নারচী ইউনিয়নের শাহিনুর বেগম ৩ বছর কাজ করার পর সদর ইউনিয়নের তিতপরল গ্রামের আপন বোন আরজিনা বেগমের নামে কাজ করছেন বলে স্বীকার করেছেন।

উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারাও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। কর্নিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দিপন বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এরকম কোন কিছু জানিনা। কারন এরা এসব সিন্ডিকেট করে খায় সবাই। 

ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদ, এরা চুরি করে মহিলাদের নাম দেয়। আমরা চেয়ারম্যানরা যখন ফোন করে তখন তারা বলে এটার মেয়াদ শেষ হয়নি। ৫ বছরে কখনো পাইনি, ওরা টাকা নিয়ে এসব করে। 

এবিষয়ে উপজেলা এলজিইডি'র কমিউনিটি অর্গানাইজার দীপক চন্দ্র সূত্রধর উর্ধতন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার বলেন, প্রতি তিন বছর পর নতুন করে নারী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিন বছর শেষে একজন শ্রমিক পুনরায় কাজ করতে পারবেন এক বছরের জন্য। তবে একজনের এনআইডি দিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাঁর পরিবর্তে অন্য কেউ কাজ করতে পারবেন না। এলজিইডির এই বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পাওয়া অভিযোগের কিছু প্রশ্নের তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগের শ্রমিকের পরিবর্তে মেয়ে, ছেলের বউ বা আত্মীয়ের নামে নতুন করে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বাস্তবে কে কাজ করছেন, সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।

  বিষয়:   এলজিইডি  প্রকল্প  আয়নাবাজি 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত