ছবি-যাযাদি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রেললাইনের পাশেই রয়েছে বিকল্প পাকা সড়ক। তবুও সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন। বিশেষ করে আক্কেলপুর মহিলা কলেজ ও সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করতে দেখা যায়। রেললাইন ঘেঁষে মানুষের এমন চলাচলের মধ্যে শনিবার(১০অক্টোবর) ভোরে রেলসেতুর ওপর থেকে আতাহার আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আতাহার আলী উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের কানুমুর গ্রামের মৃত দশরত মিয়ার ছেলে। তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেললাইনের পাশেই চলাচলের জন্য পাকা সড়ক রয়েছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে চার থেকে পাঁচ মিনিট বেশি সময় লাগে বলে অনেক শিক্ষার্থী রেললাইনের ওপর দিয়েই যাতায়াত করেন। সকালে ক্লাস শুরুর সময় এবং ছুটির পর রেললাইনের ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রায় নিত্যদিনের চিত্র। এই পথে প্রতিদিন আন্তনগর, মেইল ও মালবাহীসহ প্রায় ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করে। এরপরও অনেকে ট্রেন চলাচলের ঝুঁকি উপেক্ষা করে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটেন।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিকল্প সড়কের তুলনায় রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করলে কিছুটা সময় সাশ্রয় হয়। এ কারণে অনেকে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই পথ ব্যবহার করেন।
শুধু যাতায়াত নয়, বিকেল ও সন্ধ্যায় রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় তরুণ ও দর্শনার্থীদের আড্ডা দিতেও দেখা যায়। অনেকে রেললাইনের ওপর বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা হেডফোন কানে দিয়ে চলাচল করেন। এতে ট্রেনের হুইসেল বা আগমনের শব্দ খেয়াল না করার ঝুঁকি থাকে। ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
আক্কেলপুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা বলেন, প্রতি সপ্তাহে অ্যাসেম্বলি ও ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেললাইনে চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি সন্তানরা যেন বিকল্প পাকা সড়ক ব্যবহার করে বাড়ি ফেরে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
আক্কেলপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গৌতম কুমার মণ্ডল বলেন, রেলপথ দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়ে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়। প্রয়োজনে প্রতিদিন এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে নিরাপদে যাতায়াত করে।
স্থানীয় অভিভাবক শাহানাজ পারভীন বলেন, অসাবধানতার একটি ছোট ভুলেই একটি প্রাণহানি ঘটতে পারে, ভেঙে যেতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন। তাই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ বলেন, মহিলা কলেজের দক্ষিণ পাশে ২৭৬ নম্বর রেলসেতুর ওপর ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। শনিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আপ দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি আক্কেলপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। ওই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশের বিকল্প সড়কটি নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।