সংগৃহীত ছবি দিল্লি পুলিশ যেখানেই আটকাবে সেখানেই যন্তর মন্তর হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নতুন নেতৃত্ব পাওয়া অজিঙ্ক্য শিন্ডে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ভিডিওতে সবাইকে নমস্কার জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই মুখপাত্র সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মোদী-শাহ এর সরকার বিমানবন্দর থেকেই আটক করেছে। এই সরকার ভয় পেয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে যখন সবাই যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলাম তখন আমরা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ এর অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছি। এ কারণেই এবার যেন লোক যন্তর মন্তরে না পৌঁছে সেজন্য তারা বাস-ট্রেন সব বন্ধ করে দিয়েছে।
মোদী শাহের ভয় থেকে বোঝা যাচ্ছে অর্ধেক লড়াই আমরা জিতে গেছি। এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নতুন লড়াই শুরু হয়ে গেছে। আমরা কী চাই? দেশের লোক কী চায়? যে ভোটের অধিকার চুরি হয়েছে, সেটাই ফেরত চাওয়া হচ্ছে। যে জ্ঞানেশ ভোট চুরি করেছে, তার পদত্যাগই তো চাওয়া হচ্ছে। এ কারণেই পুরো সরকার পুরো দিল্লি বন্ধ করে দিয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, যেখানেই পুলিশ আটকাচ্ছে সেখানেই আপনারা যন্তর মন্তর বানান। যতক্ষণ জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করছেন ততক্ষণ এ লড়াই চলবে।
আটক হওয়ার আশঙ্কা থেকে আগের রাতেই একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। ওই ভিডিওতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি, সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক থাকলে অজিঙ্ক্য শিন্ডে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ পরিচালনা করবেন।
দলের শীর্ষ নেতাদের আটকের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে সিজেপি।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্পাইক স্ট্রিপও বসানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ৪০ হাজারের বেশি সদস্যকে নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের হিসাবে, শনিবার বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরে প্রায় ২৬ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য থাকার কথা জানানো হয়েছে।
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং করে নিষিদ্ধ জমায়েত, মিছিল এবং সড়ক অবরোধ না করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার বিধিনিষেধের কথাও প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া ব্লক ও ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) নৈরাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেছেন, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। তার দাবি-ভোটারদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েই তারা অস্থিতিশীলতা নষ্টের পথ বেছে নিয়েছে।
নবীনের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত হয়েই এসব দল অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। যখন মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করলো এবং গণতন্ত্রই তাদের শাস্তি দিলো তখন তারা এর থেকে শিক্ষা না নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এ বিক্ষোভে মদত দিচ্ছে বিদেশি শক্তি।
বিক্ষোভকারীরা সংবিধানের দোহাই দিয়েই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে মিথ্যার সাহায্য নিয়ে গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করাটা জনগণের ম্যান্ডেকে অপমান করার শামিল। বিজেপি প্রধান মনে করেন, বিরোধী নেতাদের মুখের ভাষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তাদের আক্রমণ দেখেই দেশের যুবসমাজ আবারও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া