পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী হুমায়ুন কবির ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী হুমায়ুন কবির
* মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের
* প্রধান মন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে
পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ‘মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ যা করার তা করবে। মক্কা প্যাক্টে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান প্রতি মন্ত্রী।’ শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব : বাংলাদেশ-সউদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতি মন্ত্রী বলেন, ‘মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেখানে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মিডল ইস্টে শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। জাতি সংঘের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিষয়ে কোনো আপস নেই।’ সউদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিটান্স আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই প্রচলিত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সউদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রজেক্টে সউদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দুই দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ছে।’
প্রধান মন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে
প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে প্রাধান্য দেবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব চায়।’
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কয়েকটি মেগা প্রজেক্টে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী ডিপ্লোম্যাটিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান গত এপৃলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী বলেন, ‘সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তিনি জানান, আসন্ন সফরে খাত-ভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রধান মন্ত্রীর সউদি আরব সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সউদি আরবের যুবরাজ প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধান মন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই তিনি সুবিধাজনক সময়ে এ সফরে যাবেন। সউদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।’
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউর ভিসি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।