লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত
* বৈধ পাস না থাকলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ
* মোবাইল কোর্ট আইন আরো কার্যকর করার তাগিদ প্রধান মন্ত্রীর
* গোয়েন্দা রিপোর্টে পাস জালিয়াতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ
* ওটিপি চালুর পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবৈধ ও ভুয়া প্রবেশ পাসের ব্যবহার বন্ধে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৈধ প্রবেশ পাস ছাড়া কাউকে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেলে তার পরিচয় ও প্রবেশের উদ্দেশ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে দেয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ আরো কার্যকরভাবে প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবেশ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ পথে আকস্মিকভাবে পাস যাচাই করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্ল্যান রয়েছে। বৈধ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, ভুয়া পাস ব্যবহার কিংবা প্রবেশবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কোন অপরাধে মোবাইল কোর্ট সরাসরি বিচার করতে পারবেন, সেটা নির্ধারিত হবে আইনের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী।
প্রধান মন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী, সচিব, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, এমপি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসতে হয়। এত মানুষের যাতায়াতের মধ্যে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বৈধ কাজে আসা ব্যক্তিদের প্রবেশ নির্বিঘ্ন রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেবল প্রবেশ পথে কড়াকড়ি বাড়িয়ে নয়, পাস ইসু থেকে শুরু করে নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। ভুয়া ও অবৈধ পাস ব্যবহার, নিয়ম না মেনে প্রবেশ, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে ভেতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। এসব অভিযোগের মধ্যে কোনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা আর কোনটি ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ফল, সেটা নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গোয়েন্দা রিপোর্টে পাস জালিয়াতির অভিযোগ
সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টে প্রবেশ পাস ইসুর প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একাংশের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে পাস দেয়ার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অনেকেই বেআইনিভাবে প্রবেশ পাস ইসু করছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সচিবালয়ের একাধিক প্রবেশ পথ দিয়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো এমপি ছয়-সাত জন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কেপিআইভুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৈধ পাস না থাকা সত্ত্বেও পরিচিতি, প্রভাব কিংবা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবস্থা করে সচিবালয়ে ঢোকার ঘটনাও ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এমপি কিংবা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলে সেগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি পাস ইসু ও নিরাপত্তা তদারকির প্রক্রিয়াও পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ওটিপি চালুর পরও বন্ধ হয়নি অনিয়ম
দর্শনার্থীদের প্রবেশ আরো নিয়ন্ত্রিত করতে সচিবালয়ে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও সাক্ষাতের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার কথা। কিন্তু প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যবস্থা চালুর পরও ভুয়া পাস ব্যবহার এবং বিভিন্ন কৌশলে সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রবেশ পথে নিয়মিত নজরদারি, পাসের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। এ কারণেই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
প্ল্যান অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ পথে আকস্মিকভাবে পাস পরীক্ষা করবেন। কারো কাছে বৈধ প্রবেশ পাস না পাওয়া গেলে তার পরিচয় ও প্রবেশের কারণ যাচাই করা হবে। পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে। তবে বৈধ পাস না থাকার প্রতিটি ঘটনাকে একই ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর।
মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগে জোর
বাংলাদেশ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনে নির্ধারিত অপরাধের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক বিচারিক ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত এখতিয়ার, অপরাধের ধরন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ফলে সচিবালয়ে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার সময়ও কোন অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে, সেটা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আইনটির কয়েকটি ধারা সংশোধন এবং প্রয়োগ আরো গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় কর্মকর্তারা যাতে আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে না পড়েন, সে জন্য একটি নির্দেশিকা জারির বিষয়েও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে। তবে আইন সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো কি এবং নির্দেশিকা জারির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না— এসব বিষয়ে সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মোবাইল কোর্টকে শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না; নিয়ম ভাঙার প্রবণতা প্রতিরোধ এবং সচিবালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও একে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া ও ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলেও সচিবালয়ে ভুয়া পাসের মাধ্যমে প্রবেশ ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে সময়ের উদ্যোগের বিস্তারিত নথি পাওয়া গেলে বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রধান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
সচিবালয়ের নিরাপত্তা এবং মোবাইল কোর্ট আইন কার্যকর করার বিষয়ে প্রধান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধান মন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনাররাও বৈঠকে ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সচিবালয়ের প্রবেশ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ পাসের ব্যবহার বন্ধ এবং মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠকের তারিখ, কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্তের লিখিত নথি পাওয়া গেলে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নিয়মই মুখ্য
সাম্প্রতিক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ছাত্র নেতার সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারো কারো ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া এসব অভিযোগের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা প্রভাব নয়, বৈধ অনুমতি ও নির্ধারিত নিয়মই মুখ্য হওয়া উচিত। এমপি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক কিংবা সাধারণ দর্শনার্থী— সবার ক্ষেত্রেই প্রবেশবিধি সমানভাবে কার্যকর রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে যেটা ঘটেছে, সেসব ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবৈধ ও ভুয়া প্রবেশ পাসে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট চালু করা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ভুয়া পাস ব্যবহারের অভিযোগে কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি প্রবেশ পাস ইসু ও যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ, অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভূতভাবে পাস ইসু, প্রবেশে সহায়তা কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সচিবালয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সুরক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা। এখন দেখার বিষয়, প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ওটিপি-ভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারির সমন্বয়ে অবৈধ প্রবেশ কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায় কি না, এর ওপরও নির্ভর করবে সরকারের এই উদ্যোগের কার্যকারিতা।