প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম
আব্বাস প্রামাণিক।নাটোরের গুরুদাসপুরে ১২৩ বছর বয়সে মারা যাওয়া আব্বাস প্রামাণিকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার দুর্গাপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
আব্বাস প্রামাণিকের ভোটার পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তাঁর জন্মসাল ১৯০৩। দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। খুকনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার ছেলেমেয়েদের বিনা মূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।
তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল, ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই নিয়মিত পবিত্র কোরআন শরিফ পড়তে পারতেন তিনি। খালি চোখে দেখতে পেতেন আশপাশের সবকিছু। হাতে পরতেন ক্যাসিও ঘড়ি। বয়সের ভার সত্ত্বেও নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করতেন এবং অধিকাংশ সময় হেঁটেই চলাচল করতেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানে বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর নিয়ে হাজির হয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আব্বাস প্রামাণিক। এ সময় তিনি সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চিরবিদায় নিলেন দীর্ঘ জীবনের এই সাক্ষী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আব্বাস প্রামাণিকের স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর সংসারে দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। নাতি-নাতনিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখভাল করতেন। একসময় সচ্ছলতা থাকলেও জীবনের শেষ সময়ে সাধারণ পরিবেশে বসবাস করেছেন তিনি। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলো।
বাবাকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়সে মা মারা যান, তখন থেকেই বাবার কাছে বড় হয়েছি। সুযোগ পেলেই পছন্দের খাবার নিয়ে বাবাকে দেখতে যেতাম। তিনি তাঁর সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন।’
আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের প্রবীণতম ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাঁর পাশে ছিল। আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’