ছবি-যাযাদি ধর্মীয় অনুশাসন ও নীতি-নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ সমাজ গঠনে পুরোহিতদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আচরণে প্রতিফলিত করতে হবে। সমাজে দুর্নীতি, হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও অনৈতিকতা দূর করতে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বরিশালের গৌরনদীতে ফাইভ স্টোন ইম্প্যাক্টের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবির মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাপ্টিস্ট গৌরনদী ধর্মপল্লীর পুরোহিত রেভারেন্ড মাইকেল জেমস রায়। প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগের পাল পুরোহিত সুখোরিও বৈরাগী, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, সিসিডিবি গৌরনদীর প্রকল্প কর্মকর্তা সুদীপন খিশা এবং ক্যাথলিক চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার লিটন গোমেজ।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও কল্যাণমুখী করে তোলে। ধর্ম মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে, অন্যায় থেকে বিরত থাকতে এবং অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে শেখায়। অন্যদিকে, নীতি-নৈতিকতা মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ ও সৎ আচরণের ভিত্তি।
তাঁরা আরও বলেন, সত্য কথা বলা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত পুরোহিতদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন ও নীতি-নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক। শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; দৈনন্দিন জীবনেও সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার চর্চা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে হবে।
তাঁদের মতে, ধর্মীয় অনুশাসন ও নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।