ছবি-যাযাদি কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সড়কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও গ্রীন কক্সবাজারের যৌথ আয়োজনে, ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে বৃক্ষরোপণে কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ পুরুস্কৃত হওয়া পরিবেশ যোদ্ধা হেলাল উদ্দিন নিশাথের অর্থায়নে এ প্রোগ্রাম সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়।
ধরা কক্সবাজারের সদস্য সচিব এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীনের সভাপতিত্বে ধরা কক্সবাজারের সহ সদস্য সচিব শামসুল আলম শ্রাবণের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রমূখ।
পরিবেশ যোদ্ধা হেলাল উদ্দিন নিশাথ বলেন, কক্সবাজার জেলায় এককভাবে ১২৮১ টি চারা গাছ রোপণ ও সফল পরিচর্যার স্বীকৃতিস্বরূপ যে পুরস্কার ও সংবর্ধনা আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে পুরস্কারের চেয়েও আমার আসল আনন্দ—প্রতিদিন নিয়ম করে চারাগুলোর গোড়ায় পানি দেওয়া এবং তাদের বেড়ে ওঠা নিজের চোখে দেখা। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৫৫০ টি তাল বীজ রোপণের মাধ্যমে এই সবুজ বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর আমাদের এই টেকনাফে বজ্রপাতে মানুষ প্রাণ হারায় ও ঝুঁকিতে থাকে। মানুষের প্রতিটি জীবন অমূল্য। বিজ্ঞান বলছে, তাল গাছ হলো প্রকৃতির এক অনন্য 'বজ্র নিরোধক বর্ম'। এর বিশাল উচ্চতা আকাশ থেকে ধেয়ে আসা ভয়ানক বজ্রপাতকে সরাসরি নিজের ভেতরে শোষণ (Absorb) করে নেয়; নিজের বুক পেতে দিয়ে বাঁচিয়ে দেয় মানুষের জীবন। আজ আমরা যে ৫৫০ টি বীজ বুনছি, এগুলো একেকটি প্রাকৃতিক সেফটি টাওয়ার। আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞা—বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে 'বাংলাদেশের প্রথম কার্বন ব্যালেন্সড ও নিরাপদ উপজেলা' হিসেবে আপনাদের উপহার দেওয়া। আমরা কেউই এই পৃথিবীতে চিরকাল থাকব না। আজ আছি কাল হয়ত মাটির নিচে বিলীন হয়ে যাবো। কিন্তু আমি চাই, মরে যাওয়ার আগে ভালো কাজের মাধ্যমে এই টেকনাফের মাটিতে আমার কিছু স্থায়ী পদচিহ্ন রেখে যেতে।
এই বড় মিশনের পথে আমার একার সামর্থ্য বড্ড সীমিত। আমি আমার নিজের খেয়ে না-খেয়ে, পকেটের টাকা খরচ করে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (১/৩ অংশ) গাছে বেড়া দিতে পেরেছি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি চারাগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আজকের এই মঞ্চে উপস্থিত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নের্তৃবৃন্দের কাছে আমার আকুল আবেদন—যদি আপনারা এই গাছগুলোকে বাঁচানোর জন্য কিছু সুরক্ষা নেট বা বেড়ার সহযোগিতা করেন, তবে এই চারাগুলো অকালে নষ্ট হবে না। যদি আপনাদের ভালোবাসা আর প্রশাসনের একটুখানি নীতিগত সহযোগিতা পাই, তবে আমার মনের ভেতর আরও দুটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা আছে, যা আমি মরার আগে বাস্তবায়ন করে যেতে চাই।
প্রথমত হল, প্লাস্টিক দূষণ রোধ করতে এবং পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে 'ইকো-ব্রিক' (প্লাস্টিক বোতলে বর্জ্য ভরে তৈরি ইট) প্রযুক্তির মাধ্যমে এই টেকনাফের বড় এবং খালি জায়গা স্কুল কলেজের মাঠে বসার সুন্দর, নান্দনিক বেঞ্চ বানিয়ে দেওয়া।
দ্বিতীয়ত হল, কলম্বিয়ার বোগোতা শহরের সফল ট্রাফিক ইতিহাসের আদলে টেকনাফের সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ ব্ল্যাক স্পটগুলোতে প্রমিত বাংলায় সচেতনতামূলক ফলক বসানো। যেখানে শুকনো কোনো আইনের কথা থাকবে না; बल्कि স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে—“এখানে শুধু একটি দুর্ঘটনা ঘটেনি, একটি পরিবার তার অভিভাবক হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। গতি সীমিত রাখুন।
প্রিয় সুধী, এই একটি বাক্য যখন কোনো দ্রুতগামী গাড়ির চালক স্বচক্ষে পড়বেন, ক্ষণিকের জন্য হলেও কি তার বুকটা কেঁপে উঠবে না? তার ভেতরের ঘুমন্ত জীবনবোধ কি জাগ্রত হবে না? তিনি গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হবেন এবং এভাবে আমরা হয়তো বহু মানুষের জীবন অকালে ঝরে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারব। মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়। আমি হয়তো একদিন এই পৃথিবীর বুকে হারিয়ে যাবো, কিন্তু আমার লাগানো গাছ আর এই মানবিক স্বপ্নগুলো যেন আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকে। আসুন, টেকনাফকে শুধু দেশের প্রথম কার্বন ব্যালেন্সড উপজেলাই নয়, মানুষের জীবনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলি। আমাকে উৎসাহিত করতে আজ যারা এসেছেন, আপনাদের সবাইকে আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
পরিশেষে অনুষ্ঠান পরবর্তী শাহপরীর দ্বীপ সড়কে সহ বিভিন্ন জায়গায় ৫৫০ পিস তালবীজ রোপণ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এ প্রোগ্রামের আয়োজনকারীদের আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি পরিবেশ যোদ্ধা যিনি কক্সবাজার জেলায় ১ম হয়ে টেকনাফের সুনাম বয়ে আনল তার জন্য শুভকামনা। পাশাপাশি তার অর্থায়নে রোপণ করা তালবীজগুলো কোন একটি মাধ্যম বা কাওকে আলাদা দায়িত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় কিনা ও তার কাজের যে অদম্য ইচ্ছে সেটা ধরে রাখতে তাকে সরকারিভাবে বা এনজিওর মাধ্যমে কোন সহযোগীতা দেওয়া যায় কিনা সেটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।