ছবি-যাযাদি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অপশক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় খুলনার কয়রা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং খুলনা জেলা পরিষদের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
ফাহমিদা হক বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাসী। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণ এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এ অঞ্চলের মন্দিরগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্দিরের ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ পৌঁছে যাবে। অবহেলিত কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ৫৪টি আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে বরাদ্দের চিঠি তুলে দেন।
প্রধান বক্তা এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদ্যাপনে বিএনপির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। খুলনা জেলার ৮৮৭টি পূজামণ্ডপে উৎসব আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু এবং কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।
এ সময় কয়রা উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মন্দির কমিটির প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।