ব্যালন ডোর জিততে পারেননি পেলে-ম্যারাডোনা

যাযাদি ডেস্ক

স্পোর্টস

ফুটবল ইতিহাসে তাদের নাম উচ্চারিত হয় সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে। পেলের পায়ের জাদুতে তিনবার ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছিল ব্রাজিল, আর ডিয়েগো ম্যারাডোনার

2026-10-24T00:00:00+06:00
2026-10-23T20:12:02+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
স্পোর্টস
ব্যালন ডোর জিততে পারেননি পেলে-ম্যারাডোনা
যাযাদি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৮:১২ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

ফুটবল ইতিহাসে তাদের নাম উচ্চারিত হয় সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে। পেলের পায়ের জাদুতে তিনবার ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছিল ব্রাজিল, আর ডিয়েগো ম্যারাডোনার অবিস্মরণীয় নৈপুণ্যে ১৯৮৬ সালে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। অথচ ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত ব্যালন ডোর কখনো জেতা হয়নি এই দুই কিংবদন্তির। তাদের যোগ্যতা নিয়ে নয়, এর পেছনে ছিল পুরস্কারটির এক সময়কার কঠোর নিয়ম।

১৯৫৬ সালে ফরাশি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ব্যালন ডোর চালু করে। তবে শুরু থেকেই ওয়ার্ল্ডের সব ফুটবলারের জন্য উন্মুক্ত ছিল না এই পুরস্কার। প্রথম দিকে কেবল ইওরোপীয় নাগরিকত্বের অধিকারী ফুটবলারদেরই বিবেচনা করা হতো। ফলে সাউথ আমেরিকার দুই সুপার স্টার পেলে ও ম্যারাডোনা অসাধারণ পারফরম্যান্স করেও পুরস্কারটির দৌড়ে অংশ নিতে পারেননি।

পেলের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে। তিনটি ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়। কিন্তু তখনকার নিয়মে ইওরোপের বাইরের ক্লাবে খেলা তো দূরের কথা, ইওরোপীয় নাগরিকত্ব না থাকায় তার ব্যালন ডোর জয়ের সুযোগই ছিল না।
ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেও বাধা ছিল একই। বার্সেলোনা ও নাপোলির মতো ইওরোপের নামি ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ১৯৮৬ ওয়ার্ল্ড কাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পথে তার পারফরম্যান্স আজো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু আর্জেন্টাইন হওয়ায় তখনকার নিয়মে ব্যালন ডোরের জন্য মনোনীত হওয়ার যোগ্য ছিলেন না তিনি।

ব্যালন ডোরের নিয়মে প্রথম বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৫ সালে। তখন থেকে ইওরোপের ক্লাবে খেলা যে কোনো দেশের ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে ওই বছরই ব্যালন ডোর জেতেন লাইবেরিয়ার স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ। তিনিই ছিলেন পুরস্কারটির প্রথম অ-ইওরোপীয় বিজয়ী।

এরপর ২০০৭ সালে নিয়ম আরো বিস্তৃত করা হয়। ওয়ার্ল্ডের যে কোনো দেশের এবং যে কোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত হয় ব্যালন ডোর। কিন্তু তত দিনে পেলে ও ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হয়ে গেছে। নিয়মের এই পরিবর্তন তাদের আর প্রতিযোগিতামূলক ভাবে পুরস্কার জয়ের সুযোগ করে দিতে পারেনি।

তবে ফুটবলে তাদের অবদান একেবারে উপেক্ষিত থাকেনি। ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনাকে দেয়া হয় সম্মানসূচক ব্যালন ডোর। পরে ২০১৩ সালে পেলের হাতেও তুলে দেয়া হয় সম্মানসূচক ফিফা ব্যালন ডোর। তবে এই সম্মাননা দুটি নিয়মিত প্রতিযোগিতায় জেতা ব্যালন ডোরের সমতুল্য নয়।
আধুনিক ফুটবলে ব্যালন ডোরের সাফল্যের আলোচনায় লিওনেল মেসি ও কৃশ্চিয়ানো রোনালডোর নাম সবার আগে আসে। মেসি জিতেছেন আটবার, রোনালডোর সংগ্রহে রয়েছে পাচটি পুরস্কার। তাদের ব্যক্তিগত অর্জন ফুটবল ইতিহাসে অনন্য উচ্চতা তৈরি করেছে।
কিন্তু পেলে ও ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে ব্যালন ডোরের হিসাবটি ভিন্ন। তারা পুরস্কারটি জিততে পারেননি নিজেদের ব্যর্থতায় নয়, বরং এমন এক সময়ে খেলেছেন, যখন নিয়মই তাদের সেই স্বীকৃতি পাওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছিল। এ কারণেই ব্যালন ডোরের ইতিহাসে তাদের নাম না থাকা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আজো বিস্ময়ের বিষয়।
স্পোর্টস- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত