৬৩ বছরে কোনো গোলকিপার ব্যালন ডো’র জিততে পারেননি

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস

স্মৃতির পাতা থেকে ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালটা সবার আগে উঠে আসার কথা। কানের সেই ভুল যে ভোলা কঠিন! অথচ সেবার

2026-10-25T00:00:00+06:00
2026-10-24T21:41:49+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
স্পোর্টস
৬৩ বছরে কোনো গোলকিপার ব্যালন ডো’র জিততে পারেননি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ৯:৪১ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
জার্মানির কিংবদন্তি গোলপিকার ওলিভার কান
স্মৃতির পাতা থেকে ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালটা সবার আগে উঠে আসার কথা। কানের সেই ভুল যে ভোলা কঠিন! অথচ সেবার ফাইনালের আগে জার্মান কিংবদন্তি দেখিয়ে দেন, গোলকিপারও ওয়ার্ল্ড কাপে পারফরম্যান্সে সবাইকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। ভীষণ আগ্রাসী এক ‘দেয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জার্মানির পোস্টে।

কিন্তু ফাইনালে রিভালদোর শট হাতে রাখতে না পেরে ফিরতি শটে রোনালদোর গোল হজমে কানের সব অর্জন মাটি হয়ে যায় দর্শকের কাছে। অথচ সেবার গোল্ডেন বলজয়ী কান আজও পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড কাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী একমাত্র গোলকিপার। ২০০২ ব্যালন ডোরেও হয়েছিলেন তৃতীয়। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ফাইনালের ফল অন্য রকম হলে কানও হয়তো তৃতীয় না হয়ে প্রথম হতেন, অর্থাৎ ব্যালন ডোর জিততেন। তখন ১৯৬৩ সালে লেভ ইয়াশিনের পর ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারজয়ী দ্বিতীয় গোলকিপার হতেন কান।

২০১১ ব্যালন ডোর পুরস্কারেও তৃতীয় হওয়া কানের সে ওয়ার্ল্ড কাপের পারফরম্যান্স গোলকিপারদের ব্যালন ডোর জয়ের দাবিকে জোরালো করে তোলে। কিন্তু পজিশনটাই যেন ‘থ্যাংকলেস জব’—গোটা ম্যাচে বুক চিতিয়ে সব ঠেকানোর পরও সামান্য ভুলে গোল হজম করলে গেল গেল রব ওঠে! তখন প্রশ্ন ওঠে একটু অন্যভাবে। আক্রমণভাগে খেলোয়াড়রাও তো ভুল করেন। তাহলে গোলকিপাররা কেন ব্যালন ডোর জয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পিছিয়ে পড়বেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বোঝা যায়, ফুটবল কীভাবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স পরিমাপ করে, উদযাপনের জন্য ঠিক কী বেছে নেওয়া হয় এবং গোলকিপারদের অবদান মূল্যায়ন করা কেন কঠিন?

সেই খোঁজের আগে একটি তথ্য আগেভাগে জানিয়ে রাখা যাক। এবার ব্যালন ডোর পুরস্কারে মনোনীত ৩০ জনের মধ্যে নেই কোনো গোলকিপার। অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ব্যালন ডোর হাতে কোনো গোলকিপারকে দেখার সুযোগ নেই।

ইয়াশিনের পর পুরস্কারটি জয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছেন কেউ কেউ। কিন্তু ইয়াশিনের পুনরাবৃত্তি আর হয়নি। ইটালি কিংবদন্তি দিনো জফ যেমন ১৯৭৩ সালে ব্যালন ডোর জয়ে দ্বিতীয় হন। জুভেন্টাসের দুর্দান্ত তো ছিলেনই, এর পাশাপাশি ইটালির পোস্টে ১০৪২ মিনিট গোল হজম করেননি জফ। ইটালি ২০০৬ ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের পর সে বছর ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হন জিয়ানলুইজি বুফন। জার্মানি ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার পর ২০১৪ ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হন ম্যানুয়েল নয়্যারও।

প্রতিটি উদাহরণই বলে দেয়, গোলকিপারদেরও ওয়ার্ল্ডের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জফ তার সময়ে ধারাবাহিকতা ও রক্ষণাত্মক দক্ষতার প্রতীক। ওয়ার্ল্ড কাপে কীভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা যায়, সেটা দেখিয়েছিলেন কান। বুফনের শট ঠেকানোর ক্ষমতা ছিল অবিশ্বাস্য। নয়্যার আরও এক ধাপ এগোনো। শুধু গোল ঠেকানো নয়, বক্সের বাইরে পাস দেওয়ার সঙ্গে সুইপারের ভূমিকাও নিয়েছেন।

ফুটবলে গোলই শেষ কথা। বল জালে জড়ালে গ্যালারি গর্জে ওঠে। কিন্তু ধরুন সেই গোলের কয়েক মুহূর্ত আগে কোনো গোলকিপার অবিশ্বাস্য সেভ করলে ততটা গর্জে না। ম্যাচের শেষ মিনিটে কোনো ফরোয়ার্ডের গোলই হয়তো শিরোনাম হয় পরের দিন দৈনিকে। সে ম্যাচেরই হয়তো ৫০ মিনিটে গোলকিপারের অবিশ্বাস্য সেভ হয় সেই ম্যাচেরই প্রতিবেদনে বর্ণনায় বিষয়। কিংবা পটভূমি অথবা প্রেক্ষাপট। ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ে এসব প্রেক্ষাপট তৈরি অবশ্য খুব একটা কাজে লাগে না। ব্যাপারটা শুধু মূল্যায়ন নয়, পারফরম্যান্স পরিমাপকের ক্ষেত্রেও সমস্যা।

আক্রমণে অবদান বোঝা যায় গোল ও এসিস্টে (গোল বানানো)। গোলকিপারের কাজ এর চেয়ে জটিল। প্রত্যাশিত গোল (এক্সপেক্টেড গোল) মডেল মাঠে দলগুলোর তৈরি করা সুযোগের মান বুঝতে সাহায্য করেছে। আর শট-পরবর্তী প্রত্যাশিত গোলগুলোয় অনুমান করা যায় যে একজন গোলরক্ষক মুখোমুখি হওয়া শট এবং সেগুলোর পজিশন বিবেচনায় কতগুলো গোল আটকিয়েছেন। কিন্তু এগুলো ফুটিয়ে তুলতে ব্যাখ্যার প্রয়োজন আর গোলকিপার দলে যা কিছু অবদান রাখেন, তার সবটুকু এসব মেটৃকস পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারে না।

ধরুন, একজন গোলকিপার যিনি প্রতিপক্ষের থ্রু পাস আগেই বুঝতে পেরে এগিয়ে যান এবং কেউ শটটি নেওয়ার আগেই বল বিপদমুক্ত করেন। এতে হয়তো কোনো সেভ থাকে না, কোনো হাইলাইটস হয় না এবং তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ার মতো কোনো পরিসংখ্যানও থাকে না। তবু সিদ্ধান্তটি কোনো দুর্দান্ত ওয়ান-অন-ওয়ান সেভের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গোলরক্ষক বিপদ আঁচ করতে পেরে আগেই পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচে এসব অবদানের প্রভাব কতটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যতটা মানুষের মুখে মুখে ঘোরে গোল ও এসিস্টের সংখ্যা?

একই কথা খাটে গোলকিপারের পজিশনিং, যোগাযোগ, বল বিতরণ এবং রক্ষণভাগের পেছনের জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও। বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে না দেওয়া, আগেই বিপদ টের পেরে পদক্ষেপ নেওয়া—গোলকিপারদের এসব অবদান কতটা ফুটিয়ে তোলা হয়?

একজন ফরোয়ার্ডের অবদান দৃশ্যমান এবং তা সহজে প্রকাশও করা যায়। অন্যদিকে একজন গোলরক্ষকের প্রভাব মূলত প্রতিরোধমূলক, সূক্ষ্ম এবং পুরো ৯০ মিনিটে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে।

মানসিক দিকও আছে। নটিংহাম ফরেস্টে পিটার শিলটনের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ। তাঁর দাবি ছিল, ভালো গোলকিপার মৌসুমে দলকে ১৫ থেকে ২০ পয়েন্ট পাইয়ে দেন। ক্লফ বুঝতে পেরেছিলেন, শিলটনের মানের গোলকিপার দলের বাকি খেলোয়াড়দের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতেন। ডিফেন্ডাররা নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করতেন এবং আরও আগ্রাসীভাবে খেলতে পারতেন। কারণ, তাঁরা জানতেন পেছনের একজন ত্রাতা আছেন। ফরোয়ার্ডরা বিশ্বাস করতেন, ম্যাচ জেতার জন্য হয়তো একটি গোলই যথেষ্ট।

দল চাপে থাকলে একটি দুর্দান্ত সেভ দলের অন্যদের শান্ত রাখতে পারে। প্রতিপক্ষ একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করতে না পারলেও চাপে পড়ে। এসব প্রভাবের হিসাব রাখা কঠিন। আর সমস্যা হলো, এ কাজের বেশির ভাগই পরোক্ষ। ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় হয়তো এসব আসে না। কিন্তু দেখা যায়, ওই ম্যাচের প্রতিটি ধাপেই গোলকিপারের অবদান ছিল।

স্পোর্টস- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত