প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৯:৪৬ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হলেও তাতে ওপেনার রাখা হয়েছে মাত্র দুই জন। তানজিদ হাসান আর সাদমান ইসলাম বাদে আর কাউকে না রেখে অন্যদের জাতীয় কৃকেট লিগে পরখ করতে চান বলে জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। সম্ভাব্য সেই বিকল্প ওপেনারদের মধ্যে দুই জন গতকাল জাতীয় কৃকেট লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। টৃপল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে মোহাম্মদ নাঈম আউট হয়েছে ২৮২ রান করে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলা মাহফিজুল ইসলাম খেলেছেন ২১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। এ ছাড়া জাকির হাসান সেঞ্চুরি করে এই মুহূর্তে ব্যাট করছেন।
নাঈমের ২৮২
প্রায় নিখুত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিকে আড়াইশতে নিয়ে গেলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ছন্দ ধরে রেখে এগিয়ে গেলেন টৃপল সেঞ্চুরির কাছে। এরপর হঠাৎই যেন মনোযোগে বিচ্যুতি। রহিম আহমেদের অফ স্পিন ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে উল্টো বিলিয়ে দিলেন উইকেট। ডিপ পয়েন্টে নাঈম আহমেদ ক্যাচ নিতেই হতাশায় মাথা নিচু করে ফেললেন নাঈম শেখ। পরক্ষণেই তার কাছে এসে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলেন রাজশাহীর কৃকেটাররা। টৃপল সেঞ্চুরি না পেলেও চলতি জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ ইনিংসটিই যে খেললেন ঢাকার বাহাতি ওপেনার।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ২৮২ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে আগের ৪৫ ম্যাচে ছয়টি সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছিল ১৮০ রান। এবার ৪৬তম ম্যাচে এসে টৃপল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে থামলেন অল্পের জন্য।
সব মিলিয়ে চলতি জাতীয় লিগে নাঈমের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। আগের দুই রাউন্ডে তিনি খেলেন ১৩৭ ও ১৩৫ রানের ইনিংস। এবার এক ইনিংসেই আগের দুই সেঞ্চুরির সম্মিলিত রানের চেয়েও বেশি রান করলেন ২৭ বছর বয়সী ওপেনার।
ডাবল সেঞ্চুরি ছোয়ার কাজটা প্রথম দিনই অনেকটা এগিয়ে রাখেন নাঈম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শনিবার ১৪ চার ও ৮ ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ১৭১ রানে। নতুন দিনে দুইশতে পৌছাতে বেশি সময় নেননি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ডাবল সেঞ্চুরির আনন্দে মাতেন তিনি।
অন্য প্রান্তে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দারুণ সঙ্গ দিলে ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন নাঈম। পরের ৫০ রান করতে তিনি খেলেন ৬১ বল। এরপর এসএম মেহেরব হাসানের পরপর দুই বলে মারেন চার ও ছক্কা।
ততক্ষণে দৃষ্টি সীমানায় চলে আসে ক্যারিয়ারের প্রথম টৃপল সেঞ্চুরি। তাই তাড়াহুড়ো না করে এক-দুই রান নিয়ে এগোতে থাকেন নাঈম। তবে রহিমের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারির ফাদে পড়ে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনশ করার সম্ভাবনা।
মাহফিজুলের অপরাজিত ২১৭
এক-দুই রান বা বাউন্ডারিতে মাইলফলক স্পর্শ করবেন আর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠে উদযাপন- জাতীয় কৃকেট লিগে এটিকে রুটিন বানিয়ে ফেললেন মাহফিজুল ইসলাম। যার ব্যত্যয় ঘটেনি চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনেও। উপলক্ষ এবার আরো বড়। ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনি পেলেন ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ। অপরাজিত ইনিংসে ময়মনসিংহের তরুণ ওপেনার করেন ২১৭ রান। আরো বড় কিছুর হাতছানিও ছিল তার সামনে। তবে ফল আনার লক্ষ্যেই হয়তো ৭ উইকেটে ৪৬৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ।
চলতি লিগে সাত ইনিংসে মাহফিজুলের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। বাকি চার ইনিংসের দুটিতে ৬০ পেরিয়েছেন ২২ বছর বয়সী ওপেনার। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০২.৮৩ গড়ে তার সংগ্রহ ৬১৭ রান। এবারের আসরে ৬০০ রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি। অথচ মৌসুম শুরুর আগে ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে একটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে মাত্র ১৮.৯২ গড়ে মাহফিজুলের নামের পাশে ছিল ৪৭৩ রান। এবার স্রেফ চার ম্যাচ ও সাত ইনিংসে আগের ১৪ ম্যাচের মোট সংগ্রহকে ছাড়িয়ে গেলেন ময়মনসিংহের ওপেনার!
বগুড়ার শহিদ চান্দু স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করার পথে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১ হাজার রানও পূর্ণ হয়েছে মাহফিজুলের। চার সেঞ্চুরিতে ক্যারিয়ার গড়ও এখন ৩৫-র বেশি। ম্যাচের প্রথম দিনই দেড়শ পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগান মাহফিজুল। রবিবার সকালে দ্বিশতক ছোয়ার জন্য কোনো তাড়াহুড়া করেননি তরুণ ওপেনার। বরং দেখেশুনে খেলে ধীরে ধীরে তিনি এগিয়ে যান কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকের কাছে। শেষ পর্যন্ত ২০ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩৮ বলে পূর্ণ হয় তার ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। দ্বিশতক ছুয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ছক্কা মারেন মাহফিজুল। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ ব্যাটিং করা হয়নি। ২০ চার ও ২ ছক্কায় তাকে ৩৫১ বলে ২১৭ রানে অপরাজিত রেখে ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শুভাগত হোম খেলেন ৭১ রানের ইনিংস। লিগের প্রথম রাউন্ডে ৭০ রানের ইনিংস দিয়ে এবারের পথচলা শুরু করেন মাহফিজুল। পরের ইনিংসেই পান তিন অঙ্কের জাদুকরী স্পর্শ। দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রানের ইনিংস খেললেও পাননি সেঞ্চুরির দেখা।
তৃতীয় রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে ১১৬ রানের ইনিংস দিয়ে ম্যাচ শুরু করেন তরুণ ওপেনার। পরের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। আর এবার আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে অপরাজিত ইনিংসে উড়ন্ত পথচলা আরো রঙিন করলেন তিনি।