প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনদশ বছরের বেশি সময় ধরে সাদা বলের কৃকেট খেলছেন নুরুল হাসান সোহান। তবে এই সময়ের মধ্যে ওয়ানডে কৃকেটে কোনো অর্ধশতকও করতে পারেননি তিনি। যখনই জাতীয় দলে সুযোগ পান ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দলের হয়ে কোনো সময়ই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি, যে কারণে বাদ পড়েন হঠাৎ করেই।
সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন সোহান। তাকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বললেন, ‘সোহান তো এসেছে লিটনের জায়গায়। সোহানকে সুযোগ দিয়েছি। সে তার সুযোগের খুব একটা ভালো ব্যবহার করেছে, তা বলতে পারছি না। সে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তার কাছে প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। কিন্তু এমনটা হতে পারে, কেননা সুযোগটা কম পান।’
পরে দলের সমস্যা তুলে ধরে বাশার বলেন, ‘আমাদের সমস্যা টপ অর্ডারে। আপনি যখন প্রথম ১০ ওভারে ২/৩ উইকেট হারিয়ে ফেলবেন, তখন সব সময় চাপে থাকবেন। মিডল অর্ডার সব সময় চাপে পড়ে যায়। আগের পরিসংখ্যানগুলো দেখলে বুঝবেন, আমাদের ওপেনিং পার্টনারশিপ ভালো হলে ২৬০, ২৭০, ২৮০ রান করেছি। আমার মনে হয় মিডল অর্ডার না, টপ অর্ডারে সমস্যা।’
এদিকে টি২০ কৃকেটে মিডল অর্ডারে ফিরেছেন রাব্বি। ওয়ানডেতেও ফিরবেন কিনা প্রশ্নে বাশার বলেন, ‘আমরা ইয়াসির রাব্বিকে টি২০ দলে নিয়েছি, হয়তো ভবিষ্যতে ৫০ ওভারের কৃকেটেও দলে নিতে পারি।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। আসন্ন সিরিজের সময়সূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা টেস্টের দলও ঘোষণা করেছে বিসিবি।
ইনজুরিতে থাকার পরও দলে রয়েছেন লিটন দাস। তবে দলে থাকলেও তাকে নিয়ে শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বললেন, ‘ভিশন ইজ ভেরি ক্লিয়ার। এই দুইটা ম্যাচ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আমাদের দলটা দেখুন, খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। যদিও লিটনকে নিয়ে একটু কনসার্ন আছে। তবে আমরা আশাবাদী সে ঠিক হয়ে যাবে। তাহলে আমাদের খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে না। আমরা আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী।’
এদিকে ওয়ানডেতে লিটন এখন নাম্বার ফোরে ব্যাট করছেন। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে বাশার বলেন, ‘লিটন তো এখন চার নম্বরে ব্যাট করছে। বেশ কয়েকটি সিরিজ থেকেই ওপেন করছে না। সে আমাদের চার নম্বরের ব্যাটার। নম্বর ফাইভ তাওহিদ হৃদয়। আমরা মোসাদ্দেককে দলে নিয়েছি, প্রথম সিরিজে ম্যান অফ দি সিরিজ হয়েছে। এরপর দুর্ভাগ্যক্রমে তার একটু অফ ফর্ম যাচ্ছে, রান করছে না।’
সর্বশেষ টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি সৌম্য সরকারের। সম্প্রতি ওয়ানডে সিরিজে রান না পেলেও তাকে বাদ দেয়ার কারণ হিসেবে ফর্মকে সামনে আনছেন না নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। বরং টেস্ট একাদশে খেলার সম্ভাবনা কম থাকায় সৌম্যকে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির কৃকেটে খেলার সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচক কমিটি।
সৌম্যর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব থাকলেও তার সামর্থ্য নিয়ে সংশয় নেই নির্বাচকের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ম্যাচ জেতানো ইনিংসের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন সুমন।
প্রধান নির্বাচক সৌম্যকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের স্কোয়াডে না রাখা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি ওয়ানডে সিরিজে সৌম্য সরকারের ব্যাটে রান আসেনি। তবে খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সে একটা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিল। এই মুহূর্তে তাকে বাদ দেওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ হলো—দেশে প্রথম শ্রেণির কৃকেট চলছে।’
টেস্টে নিয়মিত ওপেনিং জুটিই খেলার সম্ভাবনা বেশি। ফলে সৌম্যকে স্কোয়াডে রাখলেও একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। তাই দলের সঙ্গে বসিয়ে না রেখে তাকে ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন নির্বাচকরা। একই প্ল্যান থেকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি বাড়তি তৃতীয় ওপেনারও।
এক প্রশ্নের জবাবে বাশার বলেন, ‘টেস্টে আমাদের নিয়মিত ওপেনিং জুটিই হয়ত খেলবে। সে ক্ষেত্রে একাদশে সৌম্যর খেলার সম্ভাবনা বেশ কম ছিল। আমরা চেয়েছি, সে স্কোয়াডে বসে না থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলুক। যে কারণে আমরা দলে বাড়তি কোনো তৃতীয় ওপেনারও রাখিনি, যেন সবাই প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ম্যাচ প্রাকটিসের মধ্যে থাকতে পারে।’
এদিকে পেসার খালেদ আহমেদও জায়গা পাননি টেস্ট স্কোয়াডে। এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ দলে ফেরায় চার পেসার নিয়েই সন্তুষ্ট নির্বাচকেরা। খালেদকেও ঘরোয়া কৃকেটে খেলার সুযোগ করে দিতে চান তারা।
খালেদকে না রাখা নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, আমাদের মূল তিন পেসারের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ফিরেছে। স্কোয়াডে চারজন পেসার যথেষ্ট হওয়ায় খালেদের এই মুহূর্তে সুযোগ হয়নি। আমরা চেয়েছি, যারা একাদশে সুযোগ পাবে না, তারা যেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুত রাখে। সাউথ আফৃকা সফর বা সামনের সিরিজগুলোতে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কোয়াডে পরিবর্তন হতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে নাহিদ রানাকে না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি। তবে এই তরুণ পেসারের অনুপস্থিতি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তায় নেই নির্বাচকরা।
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে নাহিদকে পাওয়ার আশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু চোটের পুনর্বাসন চলাকালে নতুন করে শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়ায় তাকে নিয়ে প্ল্যানের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। নাহিদের অনুপস্থিতিকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখলেও বাকি পেসারদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুমন। একই সঙ্গে সিরিজের ফল নিয়ে আগাম চাপ তৈরি না করে নিজেদের প্ল্যান অনুযায়ী খেলায় মনোযোগ দিতে চান তিনি।