প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ৪:৩০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
এক সপ্তাহের ব্যবধানে কক্সবাজারের একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকালে শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের ‘দি সি প্রিন্সেস’ হোটেলের নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের মধ্যে। প্রাণভয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে সৈকতের দিকে ছুটে যায় অনেকে। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুন লাগার সময় সেখানে অবস্থান করছিল তিন শতাধিক পর্যটক; সবাই নিরাপদে আছে।
কক্সবাজারের একটি টুপটুপ রিসর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই আগুনের ঘটনা ঘটল। ফলে পর্যটন নগরীর হোটেল-রিসর্টগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে ‘দি সি প্রিন্সেস’ হোটেলের পার্কিং এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌছানোর আগেই হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে জেনারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই কাছের স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌছানোর আগেই হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেনও জানান, প্রাথমিকভাবে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদের বলেন, আগুন লাগার সময় হোটেলে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিল। তাদের সবাই নিরাপদে রয়েছে। হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। কর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তিনি আরো জানান, আগুনে পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো পর্যটক বা কর্মীর প্রাণহানি কিংবা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সময়ে পরপর আগুনের ঘটনা হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ, জেনারেটর রুম, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও জরুরি বহির্গমন পথ যথাযথভাবে সচল আছে কি না, তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।