
** আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল
* কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়েছে দায়িত্বশীলরা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১৯৫ সদস্য বিশিষ্ট পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মুখ্য মুখপাত্র ও মুখপাত্র পদ বাদ দিয়ে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব পদ ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন রয়েছেন।
কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব ও সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা হয়েছেন যুগ্ম সদস্য সচিব। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়।
এই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো থেকে সাতটি পদ কার্যত বিলুপ্ত হলো। এগুলো হলো- মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। তবে পুনর্গঠিত কমিটিতেও আগের মতো দুই জন করে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব থাকছেন। আগের কমিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে সারজিস, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত, মুখপাত্র পদে আসিফ ও সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে হান্নান দায়িত্ব পালন করেছেন। আর উত্তর অঞ্চল ও দক্ষিণ অঞ্চলের সংগঠক পদে ৪২ জন এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে ২৩ জন দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটিতে ২৪ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছয় জনকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগের কমিটিতে কোনো সম্পাদকীয় পদ ছিল না, তবে পুনর্গঠিত কমিটিতে ৩২টি সম্পাদকীয় পদে ৩২ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে এক-দুই জন করে সহ-সম্পাদক আছে। এর বাইরেও কমিটিতে ১৯ জন সহ-সম্পাদক রয়েছে। ৫৮ জনকে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে ১১ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২১৭ সদস্যের কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এনসিপি। পরে কমিটিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। এখন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গত এপৃলে দলটিতে যোগ দেয়া অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধান মন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি এ কে ফ্লোরা এবং বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার (তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণেরও আহ্বায়ক)। দুই জনই যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক উপদেষ্টা তারেক এ আদেলকেও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়েছে দায়িত্বশীলরা
তবে কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে মূলত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দলে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিল এনসিপি। দল গঠনের পর, গত পার্লামেন্ট ইলেকশনে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইসুতে এই নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরই প্রতিফলন এবার দলীয় পদে ঘটল। কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দক্ষতা (পারফরম্যান্স) বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন।
পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষ ছয়ে এনসিপির আট এমপির মধ্যে তিন জন রয়েছে। তারা হলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। দলের অন্য পাচ এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছে।