ছবি-যাযাদি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকবিরোধী র্যালি, অভিভাবক সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার করইয়ানগর ঠাকুরদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জমির উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম।
প্রধান বক্তা ছিলেন সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল আলম বলেন, মাদকের উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সন্তানদের মাদকমুক্ত রাখতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান বক্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সন্তানরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কিনা, বিদ্যালয়ের নাম করে কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে চলাফেরা করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। সন্তানকে যুগোপযোগী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের সঙ্গ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সৎ সঙ্গের গুরুত্ব তাদের বোঝাতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন পল্লী চিকিৎসক নেপাল কান্তি দাশ। তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চিব্বাড়ি মজিদিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহমুদুল হক, ঠাকুরদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ, সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ ইউসুফ, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সমাজসেবক জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, ছৈয়দ নুর, আব্দুর রহমান সওদাগর প্রমুখ।
সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।