কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাটি জমিজমা কেন্দ্রিক দখল-বেদখল বা দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জের ধরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রাজধানীর মানিকদিতে অবস্থিত ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ’ আবাসন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে একদল লোক হামলা চালায়। সেখানে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও রয়েছে।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন– গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা ও ভাসানটেক বস্তির মামুন (৩৫), টাঙ্গাইলের বাসিন্দা ও মজুমদারের মোড়ের অটোচালক আসলাম এবং বরগুনার পাথরঘাটার বাসিন্দা ও ভাসানটেক বস্তির মুন্না (২৯)।
হামলার কারণ সম্পর্কে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি জমিজমা কেন্দ্রিক দখল-বেদখল বা দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জের ধরে ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
চাদাবাজি বা অন্য কোনো অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে চাদাবাজির কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তদন্ত শেষে হামলার মূল কারণ ও এর পেছনে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তা জানা যাবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। রাতেই তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে কাঁদতে দেখা যায়।
ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’