ভালুকায় ১১০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ভালুকা(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

2026-10-01T19:05:16+06:00
2026-10-01T19:05:16+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ভালুকায় ১১০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
ভালুকা(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম  
ছবি-যাযাদি
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ১১৪টি পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২৫ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের পাঠদানের জন্য সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ৭১টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯৫৭ জন। ফলে সহকারী শিক্ষকের ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের ১১০টি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে একই শিক্ষককে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক কাগজপত্র ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য তাঁদের সময় কমে যায়। আবার প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় কোনো কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও বিলম্ব হতে পারে।

একাধিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন। একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হওয়ায় দুই দিকেই চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শুধু বিদ্যালয়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও জনবলসংকট রয়েছে। ভালুকায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) অনুমোদিত পদ ছয়টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন তিনজন। ফলে অর্ধেক জনবল দিয়ে ১৬৪টি বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

একজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহায়কের একমাত্র পদটিও শূন্য রয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে তাঁকে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহায়কের জন্য মাত্র একটি পদ রয়েছে, বর্তমানে সেটিও শূন্য। এ ছাড়া ১১০ জন সহকারী শিক্ষক ও তিনজন এটিও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগ ও পদায়ন শেষ হলে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে তৈরি হওয়া সংকট অনেকটাই কমে আসবে।’

ভালুকার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় জনবলসংকটের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এ চিত্র শুধু ভালুকায় নয়, সারা দেশেই একই অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ার কারণে সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।’ তবে ময়মনসিংহের পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার তুলনায় কিছুটা ভালো বলেও জানান তিনি।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত