প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম
ছবি-যাযাদি গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া ও মনিপুর এলাকায় পচা ডিম ব্যবহার করে বেকারি পণ্য তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর একটি বেকারি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পচা ডিমসহ খাদ্যপণ্য তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে যমুনা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে উপজেলার মনিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভূঁইয়া বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় বেকারিতে খাদ্যপণ্য তৈরির পরিবেশ ও ব্যবহৃত উপকরণ পরিদর্শন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. জিয়াউল হাসান সৌরভ এসব অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে অনিরাপদ ও নষ্ট উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন বেকারিতে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে কেক, বিস্কুট, পাউরুটিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এসব পণ্য পরে স্থানীয় দোকান ও বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে এসব খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বেকারি পণ্যের চাহিদা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকলে অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করা কঠিন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্যপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে যমুনা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভূঁইয়া বেকারিকে সিলগালা করার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের তৎপরতার কথা জানিয়েছে।